ধর্মীয় উগ্রবাদীদের মেইনস্ট্রিম হতে দিইনি: রিজওয়ানা হাসান
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩০ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ধর্মীয় উগ্রবাদী শক্তিকে মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ‘সমাজে একটি শক্তি সব সময় নারীর সমান অধিকার ও ক্ষমতায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। সেই শক্তির একটি অংশ রাজনীতিতেও সক্রিয় থাকতে পারে। তবে আমাদের কাজ ছিল যাতে তারা মূলধারায় আসতে না পারে এবং আমরা সেই কাজটা করতে পেরেছি।’
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ান- এর বিশেষ আয়োজন ‘মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নয়নাদিত্যর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশজুড়ে নানা ধরনের অস্থিরতা দেখা দেয়। সে সময় মাজারে হামলা, বাউলদের ওপর নির্যাতন এবং নারীদের নিয়ে কটূক্তির মতো ঘটনাও সামনে আসে। ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি আমাদের জন্য খুবই চাপের ছিল।
একদিকে ছিল বিশৃঙ্খলা, অন্যদিকে আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছে।’
নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি জানান, তার দীর্ঘ কর্মজীবনে এতটা নারীবিদ্বেষী ভাষা আগে শোনেননি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও শুধু নারী হওয়ার কারণে তাকে নানা আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নারীবাদের কোনো বিরোধ নেই, বরং নারীর অধিকার রক্ষায় সরকার দুটি নতুন আইন করেছে। একটি পারিবারিক ক্ষেত্রে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং অন্যটি কর্মক্ষেত্রে সহিংসতা প্রতিরোধে।’
জেল থেকে উগ্রবাদীদের মুক্তি পাওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘আইনি জটিলতার কারণে কিছু ক্ষেত্রে অনেককে আটকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে’ বলে জানান তিনি।
তার মতে, উগ্রবাদী শক্তি সমাজে আগে থেকেই ছিল এবং বিভিন্ন সময় সুযোগ পেলেই মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তারা কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনতে পারেনি।
যারা নারীর অধিকার ও সমান অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তাদের রাজনৈতিক শক্তি যেন মূলধারায় প্রভাব বিস্তার করতে না পারে- এটাই আমাদের লক্ষ্য ছিল বলেন রিজওয়ানা হাসান।
এসকে/টিকে