বিশ্বব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে, অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে কার্নি
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪২ পিএম | ০৫ মার্চ, ২০২৬
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা বিশ্বব্যবস্থা এখন ভেঙে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাকে ‘আত্মীয়তার সম্পর্কের মতো কৌশলে’ একসঙ্গে কাজ করা উচিত বলে বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
কার্নি বলেন, মধ্যম শক্তির দেশগুলোর সামনে এখন বড় প্রশ্ন, তারা কি নতুন নিয়ম তৈরিতে ভূমিকা রাখবে, নাকি বড় শক্তিধর দেশগুলোই সব সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে।
তিনি আরো বলেন, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, প্রতিরক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে আরো আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করা উচিত।
কার্নির এই বক্তব্য তার আগের মন্তব্যগুলোর মতোই। তিনি আগে সুইজারল্যান্ডের বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম বার্ষিক সভায় বলেছিলেন, ‘পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না এবং মধ্যম শক্তির দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
কার্নি বৃহস্পতিবার বলেন, এখন অনেক দেশই নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে কারণ অনেকের মনে হচ্ছে বর্তমান আন্তর্জাতিক নিয়মগুলো আর তাদের সুরক্ষা দিতে পারছে না।
প্রায় ২০ বছর পর এই প্রথম কোনো কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরার পার্লামেন্টে ভাষণ দিলেন।
পরে কার্নি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে দুই দেশ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মহাকাশ সংস্থাগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়।
এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়া জি৭ ক্রিটিক্যাল মিনরালস অ্যালায়েন্সেও যোগ দেবে। কার্নি এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক খনিজ সম্পদ জোট বলে উল্লেখ করেন।
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া মিলে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরেনিয়াম ও লিথিয়াম এবং ৪০ শতাংশের বেশি লৌহ আকরিক উৎপাদন করে।
আলবানিজ বলেন, দুই দেশকে কৌশলে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে কারণ তাদের মূল্যবোধ ও নীতিগত অবস্থান অনেকটাই এক।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে দুই নেতা উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানান। তারা ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে সমর্থন করলেও বলেন, পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়া উচিত নয়। তবে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা হারানো পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়।
এসকে/টিকে