© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ বন্ধ / বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমাতে রুশ তেল কিনছে ভারত

শেয়ার করুন:
বৈশ্বিক বাজারে চাপ কমাতে রুশ তেল কিনছে ভারত

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৪৪ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন জানিয়েছে, সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল কেনার জন্য ভারতীয় রিফাইনারিগুলোকে ৩০ দিনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্ত জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখতে ট্রেজারি বিভাগ এই অস্থায়ী ছাড় দিয়েছে। এতে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো সমুদ্রে থাকা রুশ তেল কিনতে পারবে।

এর আগে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রাশিয়ার তেল বিক্রির অর্থ মস্কোকে ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

তবে নতুন সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্কট বেসেন্ট বলেন, এই সাময়িক ব্যবস্থায় রুশ সরকারের বড় ধরনের আর্থিক লাভ হবে না। কারণ এতে কেবল সেই তেলের লেনদেনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে যা ইতিমধ্যে সমুদ্রে রয়েছে। ইরানের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, এই ব্যবস্থা তা কিছুটা কমাতে সাহায্য করবে।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে তা সামাল দিতে ভারত দ্রুত সরবরাহযোগ্য রুশ অপরিশোধিত তেলের কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল কেনার চেষ্টা করছে।

বর্তমানে ভারতে যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে তা দিয়ে মাত্র ২৫ দিনের চাহিদা মেটানো সম্ভব। দেশটির মোট তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এবং এর বড় অংশ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর সমুদ্রপথে রুশ অপরিশোধিত তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে ওঠে ভারত। তবে চলতি বছরের শুরুতে ওয়াশিংটনের চাপের মুখে ভারতীয় রিফাইনারিগুলো সেই কেনাকাটা কমাতে শুরু করে।

এদিকে হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলো যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে ইরান–এর সঙ্গে আলোচনা করছে চীন।

সাত দিনের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির আশপাশে কয়েকশ জাহাজ আটকে আছে। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামও বাড়তে শুরু করেছে।

অন্যদিকে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারকে অগ্রাধিকার দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের বড় তেল শোধনাগারগুলোকে সাময়িকভাবে ডিজেল ও পেট্রল রপ্তানি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই নির্দেশনা এসেছে শি জিনপিং প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলে জানা গেছে।

এসএন 

মন্তব্য করুন