© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি জোবাইদুল আমিনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েছে এফবিআই

শেয়ার করুন:
মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশি জোবাইদুল আমিনকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়েছে এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:৫৬ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিশু যৌন শোষণের নেটওয়ার্ক পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশি তরুণ জোবাইদুল আমিনকে (২৮) মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

গত বুধবার মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর থেকে তাকে আলাস্কার ফেডারেল কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে তার প্রথম হাজিরা ছিল।

মার্কিন সরকারি অ্যাটর্নি অফিসের তথ্যমতে, ২০২২ সালের জুলাই মাসে আলাস্কার একটি গ্র্যান্ড জুরি আমিনের বিরুদ্ধে ১৩টি পৃথক ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছিল। মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আমিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও স্ন্যাপচ্যাট ব্যবহার করে শিশুদের শনাক্ত করতেন এবং তাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যৌন স্পষ্ট ছবি ও ভিডিও তৈরি করতে বাধ্য করতেন।

তদন্তকারীদের দাবি, আমিনের এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুধু আলাস্কায় সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার নেটওয়ার্ক বিস্তৃত ছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, আমিনের বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও বিতরণের ষড়যন্ত্র, শিশু শোষণমূলক চক্র পরিচালনা, সাইবারস্টকিং, পরিচয় জালিয়াতি এবং ওয়্যার জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ার একটি মেডিকেল স্কুলে পড়াশোনা করছিলেন এবং ২০২২ সালে সেখানেও তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে দুই দেশের আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার দীর্ঘ সমন্বয়ের পর তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

ইউএস অ্যাটর্নি এস লেইন এই ঘটনাকে অত্যন্ত ভয়াবহ অভিহিত করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুদের যৌনভাবে শোষণ করা একটি জঘন্য অপরাধ, যা অনেক শিশুর শৈশব কেড়ে নিয়েছে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোর এই যৌথ অভিযান প্রমাণ করে যে অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করতে সীমানা কোনো বাধা নয়।

এফবিআই অ্যাঙ্করেজ ফিল্ড অফিসের বিশেষ এজেন্ট ইন চার্জ অ্যান্টনি জাং জানিয়েছেন, এই চক্রে শত শত শিশুকে টার্গেট করা হয়েছিল। যারা ছবি পাঠাতে অস্বীকৃতি জানাত, তাদের ছবি ও তথ্য ইন্টারনেটে ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো।

ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আদালতে দোষী সাব্যস্ত হলে আমিনের সাজা ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে মামলাটি এফবিআই-এর শিশু শোষণ ও মানব পাচার টাস্ক ফোর্সের একটি বড় তদন্তের অংশ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন