ঋণ আটকে দেয়ায় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দিলেন জেলেনস্কি
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৩৫ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নয় হাজার কোটি ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ আটকে দেয়ায় হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে হুমকি দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি। বলেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউক্রেনের জন্য ৯০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ একজন ব্যক্তি আটকে রেখেছেন। এই বাধা দ্রুত তুলে না নিলে তিনি সেই ব্যক্তির ঠিকানা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে দিতে পারেন।
কিয়েভ ইনডিপেন্ডেন্ট বলেছে, যদিও তিনি সরাসরি নাম বলেননি, তবে তার মন্তব্যটি মূলত হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের দিকে ইঙ্গিত করছে বলে স্পষ্ট প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ তিনি ইউক্রেনের জন্য এই ঋণ অনুমোদনে আপত্তি জানিয়েছেন। এই বিরোধের পেছনে রাশিয়ার তেল পরিবহন নিয়ে দ্রুজবা পাইপলাইন সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ঘিরে নতুন করে তীব্র হয়েছে কূটনৈতিক উত্তেজনা। ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকে থাকতে ইউক্রেনের জন্য আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাষ্ট্রের অধিকাংশ বাজেটই এখন প্রতিরক্ষায় ব্যয় হচ্ছে।
তবে রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ হাঙ্গেরি তেল সরবরাহ নিয়ে বিরোধের জেরে ৯০ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ আটকে দিয়েছে। চলতি সপ্তাহে অরবান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, ইউক্রেন যে তেল সরবরাহে বাধা দিচ্ছে, সেটা প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে ভেঙে দেয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘কোনো চুক্তি না হলে কোনো সমঝোতাও নয়।’ এতে হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলেনস্কি। বিশ্লেষকদের মতে, জেলেনস্কি ও অরবানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে। আগামী ১২ এপ্রিল নির্বাচনের মুখে থাকা অরবান এখন পর্যন্ত ইউক্রেন যুদ্ধের ব্যাপারে সরাসরি রাশিয়ার সমালোচনা এড়িয়ে চলছেন।
হাঙ্গেরির দাবি, ইউক্রেন ইচ্ছাকৃতভাবে দ্রুজবা পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপে রুশ তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই ইউক্রেনের সহায়তা প্যাকেজ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা আটকে দেয় হাঙ্গেরি।
তবে কিয়েভ বলছে, জানুয়ারিতে রাশিয়ার হামলায় পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং মেরামতের কাজ চলছে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের। সোভিয়েত আমলের ওই পাইপলাইন দেড় মাসের মধ্যেই আবার চালু করা সম্ভব হতে পারে বলেও জানান জেলেনস্কি।
এর মধ্যেই নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে যুদ্ধবন্দি ইস্যুতে। ইউক্রেনের অভিযোগ, রাশিয়া বুদাপেস্টের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে দ্বৈত হাঙ্গেরীয় নাগরিকত্বধারী দুই ইউক্রেনীয় যুদ্ধবন্দিকে হাঙ্গেরিতে স্থানান্তর করেছে। কিয়েভ বলছে, এটি জেনেভা কনভেনশনের লঙ্ঘন এবং ইউক্রেন ও ইউরোপের সম্পর্ক দুর্বল করার জন্য রাশিয়ার হাইব্রিড আগ্রাসনের অংশ।
তবে রাশিয়ার দাবি, ওই দুই বন্দিকে জোরপূর্বক ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং হাঙ্গেরির অনুরোধেই তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেনকে বাদ দিয়ে তৃতীয় পক্ষের কাছে যুদ্ধবন্দি হস্তান্তর আসলে একটি পরিকল্পিত উসকানি। এতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামো দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি যুদ্ধবন্দিদের জীবন রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠছে।
এসএস/এসএন