© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

অতীতে চীনকে দেয়া অর্থনৈতিক সুবিধা ভারতকে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

শেয়ার করুন:
অতীতে চীনকে দেয়া অর্থনৈতিক সুবিধা ভারতকে দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:১৪ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদার করতে আগ্রহী হলেও অতীতে চীনকে দেয়া অর্থনৈতিক সুবিধা নয়াদিল্লিকে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

গত বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাইসিনা ডায়ালগে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতি বিষয়ক এক অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমন মার্কিন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ বলেন, প্রায় দুই দশক আগে চীনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র যে নীতিগত ভুল করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি করা হবে না।
 
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের অসীম সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে যৌথভাবে কাজ করতে চায়। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন যে, চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার ওয়াশিংটন অনেক বেশি সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
 
ল্যান্ডাউ বলেন, ‘ভারতকে বুঝতে হবে- ২০ বছর আগে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যে ভুলগুলো করেছিল, ভারতের ক্ষেত্রে তা করা হবে না।’ তার এই মন্তব্যকে অনেকেই চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক উত্থান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি হয়ে ওঠার প্রেক্ষাপটে দেয়া সতর্ক বার্তা হিসেবে দেখছেন।
 
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্ন মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রস্তাবও দেন তিনি। ল্যান্ডাউ জানান, ভারতের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে ওয়াশিংটন নয়াদিল্লির সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
  
এদিকে রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৩০ দিন পর্যন্ত এই সুবিধা কার্যকর থাকবে বলে জানা গেছে। 
 
ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে একটি বড় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। কয়েক দফা আলোচনার পর গত মাসে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে ওয়াশিংটন। তবে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয়নি এবং বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে।
 
ল্যান্ডাউ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়, যা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। 
  
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ককে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সমঝোতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। একই সময়ে ভারতও কৌশলী অবস্থান বজায় রেখে একাধিক দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক বিস্তৃত করছে।
 
আমেরিকার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে নয়াদিল্লি ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখলেও নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় বহুমুখী কৌশল গ্রহণ করছে ভারত।

এমআই/টিকে 

মন্তব্য করুন