© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ব্যবসায়ী থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ছিনতাই, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

শেয়ার করুন:
ব্যবসায়ী থেকে সাড়ে ৮ লাখ টাকা ছিনতাই, বিএনপি নেতা গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৭:৪৮ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে এক ব্যবসায়ী ও তার সহকারীকে মারধর করে সাড়ে ৮ লাখ টাকার বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উপজেলার মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হারুনকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলার বিয়ালা গ্রামের বাসিন্দা নুর আলমের ছেলে নাজিমুদ্দিন একজন আড়ত ব্যবসায়ী। গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল থেকে দিনভর তিনি তার সহকারী আব্দুল আলিমকে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা টাকা সংগ্রহ করেন।

সারাদিনের টাকা সংগ্রহ শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তারা মোটরসাইকেলযোগে মাত্রাই-বিয়ালা সড়ক হয়ে বাড়ির পথে ফিরছিলেন। পথে বকুল মোড় এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাদের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থামায়। এরপর তাদের ওপর এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে নাজিমুদ্দিনের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় তারা।

হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় নাজিমুদ্দিন ও তার সহকারী আব্দুল আলিমকে সড়কের পাশ থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। পরে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় আহত ব্যবসায়ী নাজিমুদ্দিনের বাবা নুর আলম বাদী হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে কালাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলায় মাত্রাই ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও বিয়ালা গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে হারুন (৪৫) এবং তার ভাই মামুনুর রশিদসহ মোট ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন-একই গ্রামের রেজাউল ইসলাম, জনাব আলী, রেজাউল করিম ও তোফায়েল আহম্মেদ। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দা আমির হোসেন বলেন, ওইদিন হারুন ও তার ভাই মামুনুর রশিদসহ ১০ থেকে ১২ জন লোক ব্যবসায়ীকে মারধর করে সাড়ে আট লাখ টাকা নিয়ে যায়। এলাকায় তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার বাদী নুর আলম বলেন, ‘টাকা নিয়ে গেছে তাতে সমস্যা নেই, কিন্তু আমার ছেলেকে যেভাবে মারধর করেছে তার বিচার চাই। বিচার পাওয়ার আশায় আমি মামলা করেছি।’

কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে হারুন নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

এমআই/টিকে 

মন্তব্য করুন