ইরান যুদ্ধের মধ্যে নতুন বিপদে ইউক্রেন, সুযোগ লুফে নেবেন পুতিন?
ছবি: সংগৃহীত
১১:৫০ পিএম | ০৬ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করছে। কিন্তু ঠিক একই সময়ে ইউক্রেন এই ব্যবস্থার ব্যবহারের জন্য গোলাবারুদের তীব্র সংকটে পড়তে যাচ্ছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট সিস্টেমে রসদের ঘাটতি কাজে লাগাতে প্রস্তুত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই তার গর্বের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়, যেগুলোকে তিনি একসময় ‘অবিনাশী’ বলে ঘোষণা করেছিলেন।
১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছিল প্যাট্রিয়ট সিস্টেম। ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট সরবরাহ শুরু হয় ২০২৩ সালে। প্রথমে তা শুধু রাজধানী কিয়েভে স্থাপিত কয়েকটি ব্যাটারির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। রুশ হামলা থেকে সেগুলোকে রক্ষা করতে সিস্টেমগুলোর অবস্থান প্রায়ই পরিবর্তন করা হতো।
জার্মানির ব্রেমেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকোলাই মিত্রোখিন আল জাজিরাকে বলেন, ‘প্যাট্রিয়ট নিঃসন্দেহে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা উপাদান হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের যেসব শহরে দশ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে, সেসব শহরের নিরাপত্তার জন্য প্যাট্রিয়ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও এগুলো সব রুশ ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে পারে না।’
প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা উন্নত রাডার ব্যবহার করে উড়ন্ত লক্ষ্য শনাক্ত করে। প্রতি মিনিটে সর্বোচ্চ ৩২টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে এই সিস্টেম। এগুলো উৎক্ষেপণের শব্দ অনেকটা অত্যন্ত দ্রুত ইলেকট্রনিক বিটের মতো শোনায়।
মোতায়েনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্যাট্রিয়ট সিস্টেম রাশিয়ার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনঝাল ভূপাতিত করে। এই সফলতা পুতিনের আগের দাবিকে খণ্ডন করেছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট একসময় বলেছিলেন, কিনঝাল ক্ষেপণাস্ত্র পশ্চিমা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ‘অকার্যকর’ করে দেবে। তবে এই ‘নিরাপত্তার’ মূল্য অনেক বেশি। প্রতিটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের দাম কয়েক মিলিয়ন ডলার। বছরে এদের উৎপাদন কখনোই ৯০০টির বেশি হয়নি।
ইউক্রেনে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের রসদ ফুরিয়ে যেতে পারে। কিয়েভভিত্তিক সেন্টার ফর অ্যাপ্লাইড পলিটিক্যাল স্টাডিজের (পেন্টা) প্রধান ভলোদিমির ফেসেনকো, ‘সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মস্কো ইউক্রেনের ওপর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বন্ধ রেখেছে। এটি ভবিষ্যতের বড় আকারের হামলার জন্য সেগুলো জমা করার ইঙ্গিত।’ তিনি বলেন, ‘রাশিয়ার সবচেয়ে স্পষ্ট কৌশল হবে, ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ক্ষতিসাধনের জন্য ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ করে ফেলা।’
সূত্র: আল জাজিরা
আরআই/টিএ