বিশ্বকাপ উপলক্ষে মেক্সিকোতে প্রায় ১ লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৭ এএম | ০৭ মার্চ, ২০২৬
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সহ-আয়োজক দেশ মেক্সিকো। দেশটিতে চলমান মাদক কার্টেল সহিংসতার প্রেক্ষাপটে এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। খবর বিবিসির।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত এই বিশ্বকাপে মেক্সিকোর তিনটি শহরে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে; গুয়াদালাহারা, মেক্সিকো সিটি এবং মনতেরে। এর মধ্যে গুয়াদালাহারা শহরটি জালিস্কো অঙ্গরাজ্যের রাজধানী, যেখানে গত মাসে সহিংসতার ঘটনা শুরু হয় এবং সেখানে প্রায় ১২ হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। মেক্সিকো সিটি ও মনতেরে শহর এখন পর্যন্ত ওই সহিংসতা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ রয়েছে।
দেশটির অন্যতম ভয়ঙ্কর অপরাধী সংগঠন জালিস্কো নিউ জেনারেশন কার্টেল (সিজেএনজি) সম্প্রতি মেক্সিকোর সেনাবাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে জড়িয়েছে। সেনা অভিযানে সংগঠনটির নেতা ‘এল মেনচো’ নামে পরিচিত নেমেসিও ওসেগুয়েরা সারভান্তেস নিহত হওয়ার পর কার্টেল সদস্যরা সড়ক অবরোধ, গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ সহিংস কর্মকাণ্ড চালায়।

এল মেনচো ছিলেন মেক্সিকোর সবচেয়ে বেশি খোঁজা অপরাধীদের একজন। যুক্তরাষ্ট্রও তাকে ধরিয়ে দিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। সোমবার জাপোপানের একটি সামরিক ঘাঁটির কাছের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
শুক্রবার মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম বিশ্বকাপ নিরাপদভাবে আয়োজনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন। ফিফা এবং প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম উভয়েই জানিয়েছেন, চলমান সহিংসতা বিশ্বকাপ আয়োজনকে প্রভাবিত করবে না, যদিও টুর্নামেন্ট উপলক্ষে লাখো দর্শনার্থী মেক্সিকোতে আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মেক্সিকোর নিরাপত্তা পরিকল্পনার নাম দেওয়া হয়েছে ‘প্ল্যান কুকুলকান’; যা মায়া সভ্যতার সর্পদেবতার নাম থেকে নেয়া। এই পরিকল্পনার আওতায় আয়োজক শহরগুলো ও আশপাশের পর্যটন এলাকাগুলোতে মোট ৯৯ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্বকাপ সমন্বয় কেন্দ্রের প্রধান রোমান ভিলালভাজো বারিয়োস।
এই বাহিনীর মধ্যে থাকবেন প্রায় ২০ হাজার সেনা সদস্য, ৫৫ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা এবং বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। এছাড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় থাকবে প্রায় ২,৫০০ সামরিক ও বেসামরিক যান, ২৪টি বিমান, অ্যান্টি-ড্রোন ব্যবস্থা এবং বিস্ফোরকসহ অন্যান্য বিপজ্জনক পদার্থ শনাক্ত করতে প্রশিক্ষিত কুকুর।
এসকে/টিএ