ইরানের ১৬টি বিমান ধ্বংসের দাবি ইসরাইলের
ছবি: সংগৃহীত
১০:০১ পিএম | ০৭ মার্চ, ২০২৬
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তারা গত রাতে তেহরানে হামলা চালিয়ে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর তথা আইআরজিসির কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস করেছে। খবর আল জাজিরার।
প্রতিবেদন মতে, আজ শনিবার (৭ মার্চ) ইসরাইলি বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত রাতভর মেহরাবাদ বিমানবন্দরসহ রাজধানীজুড়ে বড় আকারে হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় কুদস ফোর্সের ১৬টি বিমান ধ্বংস হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, কুদস ফোর্স বিমানবন্দরটি লেবাননের হিজবুল্লাহসহ মধ্যপ্রাচ্যের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করতো। এই দাবিগুলো তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে আল জাজিরা। ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে ইরান ইসরাইল লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরাইলের ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়েছে। তা প্রতিহত করার জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় করা হচ্ছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আবারও হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে আজ আরও ‘কঠোর আঘাত হানা হবে’। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আজ শনিবার (৭ মার্চ) নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এ কথা বলেন তিনি।
গত শুক্রবার (৬ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরানকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে হবে বলে জানান ট্রাম্প। বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হবে না, যদি না তারা নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ করে।
জবাবে আজ শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, আগ্রাসনের মুখে তারা কখনই আত্মসমর্পণ করবেন না। এক ভিডিও বার্তায় তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোতে ইরানের হামলার জন্য দুঃখও প্রকাশ করেন। বলেন, ‘প্রতিবেশী দেশ থেকে হামলা না হলে, সেখানে আর পাল্টা হামলা চালাবে না তেহরান।’
ইরানের প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চেয়েছে ইরান এবং তাদের ওপর আর হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
এরপর হামলার হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইরানের খারাপ আচরণের কারণে এমন কিছু এলাকা ও মানুষের গোষ্ঠী এখন সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিত মৃত্যুর লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় রয়েছে, যেগুলোকে এখন পর্যন্ত হামলার লক্ষ্য হিসেবে ধরা হয়নি।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যদিয়ে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও বিস্তৃত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সংঘাত চলতে থাকায় বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বড় উদ্বেগের কারণ।
ট্রাম্প বর্তমানে ফ্লোরিডায় আছেন। সেখানে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানিয়েছেন। এরপর তিনি ডোভার এয়ার ফোর্স বেসে যাবেন, যেখানে এই সংঘাতে নিহত ছয়জন মার্কিন সেনা সদস্যের মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
নতুন করে কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হতে পারে সে বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য দেয়া হয়নি। তবে ট্রাম্প নিজেই হামলার লক্ষ্যবস্তু বাড়ানোর কথা উল্লেখ করায় বিষয়টি অনেকের কাছে কিছুটা বিস্ময়কর।
ধারণা করা হচ্ছে, এবার হয়তো এমন কিছু গোষ্ঠী বা এলাকা লক্ষ্য করা হতে পারে যেগুলো আগে লক্ষ্যবস্তু ছিল না। আগে যেসব লক্ষ্যবস্তুতে হামলা হয়েছে সেগুলো মোটামুটি জানা, যেমন রিপাবলিকান গার্ডের সদস্য, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং পারমাণবিক স্থাপনা। কিন্তু এখন তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এমআর/টিকে