অতীতের অভিজ্ঞতা ও বর্তমান বাস্তবতার মধ্যে জটিল টানাপড়েনের গল্প ‘সুবেদার’
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৪ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
অ্যাকশন আর আবেগের মিশেলে নতুন গল্প বলার চেষ্টা করেছে সুবেদার। সম্প্রতি একটি ওটিটি মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া এই ছবির কেন্দ্রে রয়েছে এক প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তার জীবন, যার অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আর বর্তমানের বাস্তবতার মধ্যে তৈরি হয় এক জটিল মানসিক টানাপড়েন। ভাবনাটি আকর্ষণীয় হলেও নির্মাণের দিক থেকে ছবিটি সব সময় সেই সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে পারেনি।
গল্পের কেন্দ্রে সুবেদার অর্জুন মৌর্য। যুদ্ধক্ষেত্রের কঠিন অভিজ্ঞতা পেরিয়ে তিনি যখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন, তখনই শুরু হয় নতুন এক লড়াই। স্মৃতির ভেতরে লুকিয়ে থাকা যুদ্ধ, কর্তব্যবোধ এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপড়েন সব মিলিয়ে চরিত্রটির ভিতরে চলতে থাকে অদৃশ্য এক সংঘাত। সেই মানসিক দ্বন্দ্বকে ঘিরেই এগোয় ছবির কাহিনি।

পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্মাতা মূলত গল্পের আবহ তৈরি করার দিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। কিছু দৃশ্যে আলোর ব্যবহার এবং ফ্রেমের বিন্যাস ছবির পরিবেশকে গভীর করতে সাহায্য করেছে। কিন্তু চিত্রনাট্যের গঠনে বেশ কিছু দুর্বলতা চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও দৃশ্য অপ্রয়োজনীয় ভাবে দীর্ঘ হয়েছে, আবার গুরুত্বপূর্ণ কিছু মুহূর্ত খুব দ্রুত শেষ হয়ে যায়। ফলে গল্পের আবেগ অনেক সময় দর্শকের কাছে পুরোপুরি পৌঁছতে পারে না।
অভিনয়ের দিক থেকে ছবির প্রধান ভরসা অনিল কাপুর। অভিজ্ঞ অভিনেতা হিসেবে তিনি চরিত্রটির ক্লান্তি, ক্ষোভ এবং দায়িত্ববোধ সংযত ভঙ্গিতে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে কয়েকটি আবেগঘন মুহূর্তে তাঁর উপস্থিতি ছবিকে প্রাণ দেয়। তবে প্রতিটি দৃশ্যেই যে তাঁর অভিনয় সমানভাবে প্রভাব ফেলেছে, এমন বলা যায় না।
সহঅভিনেতাদের মধ্যে রাধিকা মদন পারিবারিক সম্পর্কের দৃশ্যগুলোতে স্বাভাবিক অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। তাঁর উপস্থিতি গল্পে কিছুটা আবেগের পরত যোগ করে। ফয়জল মালিক সংযত অভিনয়ের মাধ্যমে কয়েকটি দৃশ্যে বাস্তবতার ছোঁয়া এনে দিয়েছেন। অভিজ্ঞ অভিনেতা সৌরভ শুক্লা সীমিত সময়ের উপস্থিতিতেও নিজের চরিত্রকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছেন। অন্যদিকে মোনা সিং আন্তরিকতার সঙ্গে অভিনয় করলেও তাঁর চরিত্রটির বিস্তার খুব বেশি ছিল না। আদিত্য রাওয়াল-এর অভিনয়ে কিছুটা চড়া মাত্রা লক্ষ্য করা যায়।
ছবির পটভূমি ও ভাবনায় সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্মাণের সীমাবদ্ধতার কারণে সেটি পুরোপুরি গভীরতা পায় না। কিছু দৃশ্যের দৃশ্যায়ন ও সঙ্গীত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেও তা সব সময় দর্শকের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলতে পারে না। ফলে ‘সুবেদার’ এমন একটি ছবি, যার ভাবনা আকর্ষণীয় হলেও নির্মাণের অসমতায় সেই শক্তি সম্পূর্ণভাবে ধরা পড়ে না।
পিআর/টিকে