© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব

শেয়ার করুন:
জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান বিচারপতি ফারাহ মাহবুব

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:৩৩ পিএম | ০৮ মার্চ, ২০২৬
বিচারপতি ফারাহ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একমাত্র নারী বিচারপতি। শুধু তাই নয়, তিনি বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের প্রথম নারী চেয়ারম্যান। বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। এই সংস্থাটি অধস্তন আদালতের বিচারক ও বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়।

চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি বিচারপতি ফারাহ মাহবুবকে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে এই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এর আগে গত বছরের ২৪ মার্চ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম পাসের পর ১৯৯২ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন। ১৯৯৪ সালের ১৫ অক্টোবর হাইকোর্টে এবং ২০০২ সালের ১৫ মে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারপতি নিযুক্ত হন। ২০০৬ সালে তিনি হাইকোর্ট বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। তার আরও একটি পরিচয়, তিনি সাবেক মন্ত্রী প্রখ্যাত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমানের মেয়ে।

হাইকোর্টে বিচারপতি থাকাকালীন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আজিমপুর কবরস্থান রক্ষার রায়, ধর্ষণের শিকার নারীদের দ্রুত মামলা নেওয়ার বিষয়ে নীতিমালা করে রায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রথাগত অধিকার রক্ষার রায়, অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর ঘটনায় শিশু জিহাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের রায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্যানেল শিক্ষকদের চাকরি সরকারিকরণের রায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা বাধ্যতামূলকের রায়, পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে ঐতিহাসিক রায়-সহ অসংখ্য আলোচিত রায় দিয়ে সুনাম কুড়িয়েছেন। তিনি আইনপেশায় নারীদের আরো বেশি অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করেন।

বিচারপতি ফারাহ মাহবুব তার এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমাদের দেশে এক সময় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচলিত ধারণা ছিল যে, আইনপেশা নারীদের জন্য উপযুক্ত নয়। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় এই যে বর্তমান সময়ে, আমাদের দেশের নারীরা সেই অচলায়তনকে অতিক্রম করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে আইনপেশার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছেন। বাংলাদেশে মোট আইনজীবীর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী আইনজীবী রয়েছেন, যারা আদালতে মামলা পরিচালনায় প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখছেন।

বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে নারী বিচারক মোট বিচারক সংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ, যারা দক্ষতার সঙ্গে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে নারী বিচারকের সংখ্যা বর্তমানে ১২ জন। এই সংখ্যা অদূর ভবিষ্যতে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এই সংখ্যা বৃদ্ধি শুধু নারীর ক্ষমতায়নের জন্যই নয়, বরং সমাজের সর্বস্তরে ন্যায়বিচারের অভিগম্যতা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

কেএন/এসএন


মন্তব্য করুন