হাদি হত্যাকাণ্ডকে ঢাল বানিয়ে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র হয়েছিল: ছাত্রদল সম্পাদক
ছবি: সংগৃহীত
১২:৩১ এএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী সন্দেহে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। এই প্রসঙ্গ টেনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডকে ঢাল বানিয়ে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করেছিল কিছু নৈরাজ্যবাদী দুষ্টচক্র।
রোববার (৮ মার্চ) রাতে ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ ওসমান হাদির হত্যায় অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল মাসুদ করিম ফয়সালের সহযোগী আলমগীর শেখ ভারতে গ্রেফতার হওয়ার খবর আনন্দবাজারসহ ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছে। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘাতকরা ভারতে পালিয়ে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে মূল অভিযুক্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি। কিন্তু এই হত্যাকাণ্ডকে ঢাল বানিয়ে নির্বাচন পেছানোর ষড়যন্ত্র করেছিল কিছু নৈরাজ্যবাদী দুষ্টচক্র।’
নাছির বলেন, ‘বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মাথায় ভারতে প্রধান দুই আসামি গ্রেফতার হওয়ার বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) হাদি হত্যার বিচারের ক্ষেত্রে বদ্ধপরিকর ছিল এবং আছে। নির্বাচনী ইশতেহারেও বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরে ওসমান হাদীর কবর জেয়ারত করেন এবং বিচারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। হাদী হত্যাকাণ্ডের বিচারের ক্ষেত্রে সরকারের আন্তরিকতা তাদের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণিত হবে।’
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশা প্রকাশ করেন, ‘বন্দী প্রত্যর্পণ চুক্তির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ভারত এই অভিযুক্তদের প্রত্যর্পণ করবে। এক্ষেত্রে সরকার অবশ্যই জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালাবে।’
প্রসঙ্গত, হাদি হত্যায় অভিযুক্ত দুই বাংলাদেশী রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ এলাকা থেকে আটক হন। পরে ওই দুই ব্যক্তিকে রোববার (৮ মার্চ) বিধাননগর আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাদের ১৪ দিনের জন্য পুলিশ রিমান্ডে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই অভিযুক্ত ব্যক্তি অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বনগাঁয় আত্মগোপন করেছিলেন। সুযোগ বুঝে তারা ফের বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন।
টিজে/টিএ