বান্দরবানে প্রথম ধাপে ফ্যামিলি কার্ড পাচ্ছে ১০৯৭ পরিবার
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৩ এএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
বান্দরবানে প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্পে এক হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
আগামী ১০ মার্চ লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড এলাকায় এ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে ১০ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং ০.৫ একরের কম জমির মালিক পরিবারগুলো এই ফ্যামিলি কার্ড পেতে অগ্রাধিকার পাবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো, প্রতি পরিবারকে মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা বা সমমূল্যের নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করে হতদরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নারীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ প্রদান করে অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
লামা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘প্রথম ধাপে লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে মোট এক হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তবে ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) পত্র না থাকায় তাদের তালিকা থেকে যাচাই-বাছাই করার সময় বাদ দেওয়া হয়। পরে অবশিষ্ট এক হাজার ৯৭টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে বাছাই করে কেন্দ্রীয় ফ্যামিলি কার্ড বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। এসব পরিবারের কাছেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, ‘সারাদেশে ১০টি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে শুরু হওয়া ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্পের আওতায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে এক হাজার ৯৭টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। ১০ মার্চ এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।
বান্দরবান ৩০০ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী বলেন, ‘সরকার দেশের প্রান্তিক, হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের টিসিবি পণ্য পাবে।’
এমপি সাচিং প্রু জেরী আরও জানান, বান্দরবান পার্বত্য জেলায় ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। তবে কোনো জাতিগোষ্ঠীকে আলাদা করে তালিকা করা হয়নি বলে জানান তিনি।
আরআই/টিকে