© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

শেয়ার করুন:
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৭ এএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে স্বর্ণ ও রুপার দাম। যার প্রভাবে দেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৯ মার্চ) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৮২ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। আর এপ্রিলে ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৯৯ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, বাজারের অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও, মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা এবং সুদের হার কমানোর প্রত্যাশার কারণে তেলের দাম তিন অঙ্কে পৌঁছেনোর পর স্বর্ণের দাম কমেছে।

এদিকে, ইরানের সঙ্গে মার্কিন-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে দীর্ঘস্থায়ী ব্যাঘাতের আশঙ্কায় সরবরাহ কমাচ্ছে। এর ফলে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১০ ডলারের বেশি হয়েছে।

ওয়াটারার আরও বলেন, গত ১২ মাসে স্বর্ণের দাম বাড়ার বেশিরভাগই মার্কিন সুদের হারের খারাপ পূর্বাভাসের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে প্রতি ব্যারেল তেলের ১০০ ডলারের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির কারণে, সুদের হার কমানো বাধ্যতামূলক নয় এবং স্বর্ণের দাম সেই অনুযায়ী পুনর্মূল্যায়ন করা হয়েছে।

সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীরা আশা করছেন যে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ১৮ মার্চের দুই দিনের বৈঠকের শেষে সুদের হার স্থিতিশীল রাখবে। জুনে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা, যা গত সপ্তাহে ৪৩ শতাংশের নিচে ছিল, তা বেড়ে ৫১ শতাংশেরও বেশি হয়েছে।

বুলিয়ন একটি অ-ফলনশীল সম্পদ হওয়ায় কম সুদের হারের পরিবেশে এর মূল্য বাড়তে থাকে। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে, ইরান সোমবার তার নেতা আলী খামেনির উত্তরসূরি হিসেবে মোজতবা খামেনিকে মনোনীত করেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে কট্টরপন্থীরা ক্ষমতায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারে স্পট রুপার দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৮২ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। স্পট প্ল্যাটিনামের দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ২ হাজার ৭৬ দশমিক ০৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬০৫ দশমিক ১২ ডলারে পৌঁছেছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণ ও রুপার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে।

এর আগে সবশেষ গত ৪ মার্চ সকালে স্বর্ণ ও রুপার দাম কমিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতু দুইটির দাম যথাক্রমে ৯ হাজার ২১৪ টাকা ও ৬৪১ টাকা কমানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৬ হাজার ২৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৭৯ হাজার ১৫৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৫৩২ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৬ হাজার ২৪০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ২৪ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এমআর/টিকে 

মন্তব্য করুন