© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

কে এই মোজতবা খামেনি?

শেয়ার করুন:
কে এই মোজতবা খামেনি?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১০ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নির্বাচিত করেছে দেশটির অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস।


রোববার (৮ মার্চ) নতুন নেতা নির্বাচন করা হয় বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আকস্মিক হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে একাধিক পশ্চিমা ও ইসরাইলি গণমাধ্যমে মোজতবা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন বলে আভাস দেয়া হয়।

৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনির দ্বিতীয় বড় ছেলে এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এর সাথে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যদিও অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বাস করতেন, খামেনির স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য মোজতবা একজন অগ্রণী প্রার্থী হবেন, তবে বিশেষজ্ঞদের মতামত ভিন্ন ছিল।

জানা গেছে, খামেনি নিজে গত বছর সম্ভাব্য উত্তরসূরীদের তালিকায় তাকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। ইরানের শিয়া মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, পিতা-পুত্রের উত্তরসূরিকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না।

বাবার ছায়ায় থাকা মোজতবাকে অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে ইরানের পরবর্তী নেতা ধরে নিয়েছিলেন। তাকে সেভাবেই গড়ে তোলা হয়েছে বলে ভাষ্য খামেনি অনুসারীদের। মোজতবা বেশিরভাগ সময় লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকেছেন, সরকারি কোনো দায়িত্বেও ছিলেন না; তার বক্তৃতার সংখ্যাও বিরল, গণমাধ্যমে তাকে দেখা গেছে হাতেগোনা কয়েকবার। কিন্তু ইরানের জটিল ধর্মতান্ত্রিক কাঠামোতে তার প্রভাব ব্যাপক ও বিস্তৃত।

মোজতবা খামেনি জাহরা হাদ্দাদ-আদেলের সাথে বিবাহিত। তিনি ইরানের রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ এবং সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম-আলী হাদ্দাদ-আদেলের কন্যা।

জানা গেছে, ২০০৪ সালে তাদের দুজনের বিয়ে হয়। চলতি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় জাহরা নিহত হন বলে জানা গেছে। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে, যদিও সন্তানদের সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেয়া মোজতবা ৬ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার ছোটবেলাতেই তার বাবা ইরানের সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভিকে উৎখাতের লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর তাদের পরিবারের ভাগ্য বদলে যায়, রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে আসে খামেনি পরিবার।

তেহরানে চলে আসা মোজতবা পড়তে যান আলাভি হাই স্কুলে; এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই ইরানের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট অনেকে উঠে এসেছেন। আলাভি থেকে মোজতবা পরে যান কোমে, রক্ষণশীলদের আলেমদের কাছ থেকে ধর্মীয় শিক্ষা নিতে। দশকেরও বেশি সময় ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় কাটালেও তিনি আয়াতুল্লাহ পদমর্যাদা অর্জন করতে পারেননি।

২০১৯ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোজতবাকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। আয়াতুল্লাহ খামেনি তার দায়িত্বের কিছুটা ছেলের কাছে হস্তান্তর করেছেন অভিযোগ করে ওয়াশিংটন সেসময় বলেছিল, জবাবদিহিতার বাইরে থেকে মোজতবা সরকারি দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লুমবার্গ বলছে, পশ্চিমা একাধিক দেশে বেনামে মোজতাবার বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। যদিও তার সম্পদের পরিমাণ ঠিক কত, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেনি তারা।

মোজতবা কোন উচ্চপদস্থ ধর্মীয় নেতা নন। তিনি কখনও কোনো পদে অধিষ্ঠিত হননি এবং শাসনব্যবস্থায় তার কোনো আনুষ্ঠানিক ভূমিকা নেই।

তবে, পর্দার আড়ালে তিনি যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেন বলে মনে করা হয়। ইরান ইন্টারন্যাশনাল বলছে, মোজতাবার ‘ক্ষমতায় আরোহণের পেছনে মূল প্রভাব’ রেখেছে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী।

ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। শিয়া নীতির কারণে মোজতবার নির্বাচনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে উঠতে পারে, তবে ইরানের অনেক শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্বকেও জাতির উপর আক্রমণে নিরপেক্ষ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর ইরানের রেভোল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাহিনীটি তাকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি খামেনির প্রতি তাদের ‘আন্তরিক ও আজীবন আনুগত্য’ ঘোষণা করেছে। তারা জোর দিয়ে বলেছে, ‘তারা সব আদেশ মেনে চলবে এবং তা বাস্তবায়নে সদা প্রস্তুত থাকবে।’

এছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও শীর্ষ কূটনীতিক আব্বাস আরাঘচিও নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন জানিয়েছে।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নিয়োগ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

ইসরাইলের সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইলকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি শুধু বলেন, ‘দেখা যাক কী হয়’।

তবে তিনি মোজতবার নিয়োগে খুশি নন বলে মার্কিন কর্মকর্তরা জানিয়েছে।

এর আগে ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা তার (ট্রাম্পের) ‘অনুমোদন’ ছাড়া বেশি দিন টিকতে পারবেন না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, ‘তাকে ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। তা না হলে তিনি (নতুন নেতা) বেশি দিন টিকতে পারবেন না।’

এমআর/টিকে 

মন্তব্য করুন