ইরানি তেলের ডিপোতে হামলার পর ইসরায়েলকে ‘হোয়াট দ্য ফা**’ বার্তা পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত
০২:১০ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
ইসরায়েল গত শনিবার ইরানের ৩০টি জ্বালানি ডিপোতে যে হামলা চালিয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রকে আগেভাগে জানানো হয়েছিল। তবে ওয়াশিংটন যে পরিমাণ হামলার প্রত্যাশা করেছিল, ইসরায়েলি হামলা তার চেয়ে অনেক বেশি বিস্তৃত ছিল। এতে যুদ্ধ শুরু হওয়ার ৮ দিনের মাথায় দুই মিত্র দেশের মধ্যে প্রথম বড় ধরনের মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এমনকি, ওয়াশিংটনের তরফ থেকে তেল আবিবে ‘হোয়াট দ্য ফা** বা ডব্লিউটিএফ’ বার্তা পাঠানো হয়েছিল।
এক মার্কিন, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এবং ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। খবরে বলা হয়েছে, সাধারণ ইরানিদের ব্যবহৃত অবকাঠামোতে ইসরায়েলি হামলা কৌশলগতভাবে উল্টো ফল দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ইরানের সমাজ শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হয়ে উঠতে পারে এবং তেলের দামও বাড়তে পারে।
শনিবার ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর হামলায় তেহরানে বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। কয়েক মাইল দূর থেকেও আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল এবং ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো রাজধানী। বিবৃতিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, ওই জ্বালানি ডিপোগুলো ‘ইরানি শাসকগোষ্ঠী বিভিন্ন ভোক্তাকে জ্বালানি সরবরাহ করতে ব্যবহার করে, যার মধ্যে তাদের সামরিক সংস্থাগুলোও রয়েছে।’
এক ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, এই হামলার একটি উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে বার্তা দেওয়া-ইসরায়েলের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করতে হবে। ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলার আগে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে বিষয়টি জানিয়েছিল। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, হামলার ব্যাপ্তি দেখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিস্মিত হয়েছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা মনে করি না এটি ভালো কোনো সিদ্ধান্ত ছিল।’ এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বার্তা ছিল মূলত- ‘ডব্লিউটিএফ।’
ইসরায়েলি হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারিইসরায়েলি হামলায় তেহরানে ‘আগুনের নদী’, বিষাক্ত বৃষ্টির সতর্কতা জারি।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো মন্তব্য করেনি।
যেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে সেগুলো সরাসরি তেল উৎপাদন কেন্দ্র নয়। তবুও মার্কিন কর্মকর্তারা উদ্বিগ্ন, জ্বলতে থাকা ডিপোর ভিডিওচিত্র তেলের বাজারকে আতঙ্কিত করতে পারে এবং জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক উপদেষ্টা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এই হামলাটি পছন্দ করেননি। তিনি তেল বাঁচিয়ে রাখতে চান। তিনি এটি পুড়িয়ে ফেলতে চান না। আর এটি মানুষকে উচ্চ গ্যাসের দামের কথাও মনে করিয়ে দেয়।’
ইরানের সামরিক অভিযান তদারকি করা খাতামুল-আম্বিয়া সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র শনিবার সতর্ক করে বলেন, ইরানের তেল অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তেহরান অঞ্চলজুড়ে একই ধরনের হামলা চালিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত ইরান আঞ্চলিক জ্বালানি ও জ্বালানিভিত্তিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেনি। তবে যদি ইরান তা শুরু করে, তাহলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার এবং শাসকগোষ্ঠীর অন্যতম শীর্ষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, অবকাঠামোর ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান ‘বিলম্ব না করে’ প্রতিশোধ নেবে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই মতবিরোধ এবং যুদ্ধ সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র কী প্রত্যাশা করছে- তা দুই মিত্র দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এমআর/টিকে