ইরান যুদ্ধ / বিশ্ববাজারে ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চে তেলের দাম, ছাড়াল ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৪ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎই উর্ধ্বমুখী হয়েছে। সোমবার এক পর্যায়ে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ২০২২ সালের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারসের দাম ১২ দশমিক ৭৭ ডলার বা প্রায় ১৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১২ দশমিক ৬৬ ডলার বেড়ে ১০৩ দশমিক ৫৬ ডলারে পৌঁছায়।
অত্যন্ত অস্থির এই লেনদেন সেশনে এক পর্যায়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে ওঠে। একই সময় ডব্লিউটিআইয়ের দামও ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলার পর্যন্ত উঠে যায়, যা একদিনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬৬ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রায় ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ ব্যারেলপ্রতি ১৪৭ ডলারে উঠেছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বাজারে তীব্র সরবরাহ সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুডের বর্তমান ও ছয় মাস পরের সরবরাহ চুক্তির মূল্যের ব্যবধান রেকর্ড ৩৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে আরও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
পরিস্থিতির মধ্যে বিভিন্ন দেশে উৎপাদনও কমে গেছে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো দুটি তেলক্ষেত্রে উৎপাদন কমিয়েছে। ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান তেলক্ষেত্রগুলোতেও উৎপাদন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে গেছে। কুয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনও উৎপাদন কমিয়ে অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে।
এদিকে কাতারের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পর এলএনজি উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ শিল্পাঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। বাহরাইনের একটি পরিশোধনাগারেও হামলার পর কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো ও পরিবহন সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য কয়েক মাস স্থায়ী হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স।