যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৩২ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে কিডনি রোগীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এমএ মুহিত। তিনি বলেন, দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা অনেক। প্রতিনিয়ত এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আমাদের যে লাইফস্টাইল ও সার্বিক অবস্থা, তাতে কিডনি রোগে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়বে, এটা কমার কোনো সুযোগ নাই; যদি আমরা প্রতিরোধমূলক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করি।
‘বিশ্ব কিডনি দিবস’ উপলক্ষে সোমবার দুপুরে যুগান্তর কার্যালয়ে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
আগামী বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিশ্ব কিডনি দিবস। দিবসটি নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবনযাপন পদ্ধতি কিডনির ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে এ রোগ সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।
‘সরকারের পরিকল্পনা মোতাবেক আমরা সবার আগে জোর দিচ্ছি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর। কিডনি রোগ প্রতিরোধে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দিতে হবে। আমরা শুরুতে প্রাইমারি ইউনিট বানাব, এরপর ইউনিয়ন সেন্টার, এর নিচে তিনটি করে সাব সেন্টার বা ক্লিনিক থাকবে’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেকোনো নতুন মেডিকেল ভবন নির্মাণের আগে...ইতোমধ্যে যে ভবনগুলো অব্যবহৃত পড়ে আছে, যে মানুষগুলো সঠিক জায়গায় পোস্টেড নাই, আগে তাদের নিয়ে কাজ করা হবে।
ডা. মুহিত আরও বলেন, আগামী পাঁচ বছরে ধাপে ধাপে আমরা এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করব। এদের মধ্যে ৮০ শতাংশ থাকবে নারী। তাদেরকে যথাযথ ট্রেনিং দিতে হবে। কমিউনিটি লেভেলে আমাদের সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা যে এক লাখ লোক নেব, তাদের জন্য একটা ইউনিফাইড স্ট্যান্ডার্ড ট্রেনিং সেন্টার বানাব। যেখানে কিডনি রোগ এবং প্রতিরোধ সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া হবে। এভাবেই আমরা কারিকুলামটা ডেভেলপ করব।
‘শুধু লোক নিয়োগের জন্য নিয়োগ নয়, আমরা কারিকুলামের ওপর জোর দেব, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ যেন মানসম্মত হয়। অন্য সব রোগের পাশাপাশি কিডনি রোগ সম্পর্কেও জনগণকে সচেতন করে তোলা হবে’।
গোলটেবিল বৈঠকে জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলো নিয়ে পরিকল্পনা তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, এখানকার হাসপাতালগুলোকে সেকেন্ডারি লেভেলের কিছু দেওয়ার চেষ্টা করব। জেলা সদর একটা ইউনিয়নে থাকা লোকের জন্য বিশাল জার্নি, আমরা যত সহজে বলি- সদর হাসপাতালে রেফার্ড, যাকে রেফার্ড করছি যদি তিনি ইউনিয়নের গ্রামে থাকেন তাহলে তার উপজেলায় আসতে দেড় ঘণ্টা লাগে, দুই তিনশ টাকা লাগে, এরপর তিনি ওখান থেকে জেলায় যাবে। এ কারণে আমরা উপজেলাগুলোকে আরও উন্নত করব। আজকাল উপজেলাতেও অনেক বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পোস্টিং হয়। আমাদের সামর্থ্য আছে উপজেলাতেও কিছু কিছু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেওয়ার। তারপর অল্প কিছু অংশ যাবে জেলায়। জেলা হাসপাতাল আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোকে আমরা সর্বোচ্চ পর্যায়ের সেবা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করব।
নতুন ‘ই-হেলথ কার্ডের’ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ই-হেলথ কার্ডের আইডিয়া নিয়ে কাজ করছি। একটা কার্ডের মাধ্যমে যে কোনো নাগরিকের মেডিকেল হিস্টোরি জানা যাবে। এতে চিকিৎসার মান বাড়বে, ধারাবাহিকতা থাকবে, প্রেসক্রিপশন মনিটরিংয়ের সুযোগ হবে। তাই আমরা ই-হেলথের মডেলটা নিয়ে একটি জেলায় কাজ শুরু করব, এরপর পুরো দেশে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোও সরকারি হাসপাতালের মতো সুযোগ-সুবিধা ও সমর্থন পাবে বলেও আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী। ডা. মুহিত বলেন, আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের কথা বলছি। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেটা বলেছেন, আমাদের লিখিত ডকুমেন্টেও তা রয়েছে। প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর সার্ভিসটা যদি সরকার কিনে নেয়, তাহলে চিকিৎসা সেবার পরিধিটা অনেক বাড়বে। হতদরিদ্র যারা চিকিৎসা সেবা নিতে গিয়ে জমিজমা বিক্রি করে সর্বস্ব হারান, তারাও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে উপকৃত হবে।
এছাড়া ফ্যামিলি কার্ডের সাহায্যে আর্থিকভাবে সবচেয়ে অসচ্ছল ব্যক্তিদের বের করে তাদের বাড়তি সহযোগিতা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দেশের সর্বক্ষেত্রে সংস্কার প্রয়োজন, তবে তার জন্য কিছুটা সময় লাগবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমি চাইলেই তো চারটি বড় বড় কিডনি সেন্টার গড়ে তুলতে পারব না। দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ভেঙে পড়েছে, এটার সংস্কার লাগবে, তবে মানুষ আরও পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে পারবে না। আমি যদি বলি পাঁচ বছরে পাঁচটা বিশাল হাসপাতাল বানাব, এ সময়ে তো আরও মানুষ মারা যাবে। এ কারণেই আমরা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপে যাচ্ছি। যে কারণে আমরা পরিত্যক্ত হাসপাতালের ভবন পুনঃনির্মাণ করব। এভাবেই জনগণকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান ডা. এমএ মুহিত।
টিএ/