নারী দিবসে অফিসের নারী কর্মীকে লাঞ্ছিত / মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালককে অপসারণে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৮ পিএম | ০৯ মার্চ, ২০২৬
নারী দিবসে অফিসের নারী কর্মীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে পঞ্চগড় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালকের (অ.দা.) একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ভুক্তভোগী নারীসহ মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা।
সোমবার দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন তারা। মানববন্ধনকারীরা জানান, ২০২০ সালে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন একেএম ওয়াহিদুজ্জামান।
পরে ক্রমানয়ে দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্ব পান তিনি। দীর্ঘদিন ধরে চার অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীরা তার কাছে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলেই লালকালি দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হতো। কর্মচারীদের গায়েও হাত তোলেন তিনি। এছাড়া চারটি অফিসে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
গত ৮ মার্চ নারী দিবসে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে একটু দেরি পৌঁছানোয় জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রশিক্ষক লুনা বেগমের গায়ে হাত তোলেন একেএম ওয়াহিদুজ্জামান। এমনকি অংশগ্রহণকারী নারীদেরও আপত্তিকর ভাষায় গালিগালাজ করেন। নারী দিবসের অনুষ্ঠানেই ভুক্তভোগী নারীরা অভিযোগ তোলেন। পরে তারা জেলা প্রশাসক বরাবরে মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেন। এদিকে অনুষ্ঠান শেষে কার্যালয়ে ফিরে সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তারা আরও জানান, গত বছরের ২৭ নভেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার বদলি হলে ক্ষমতার দাপটে এখনো তিনি চারটি অফিসে দিব্যি রাজত্ব করছেন। এ সময় তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে একেএম ওয়াহিদুজ্জামানকে অপসারণের দাবি করেন। তা না হলে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কোন অফিসে কেউ অফিস করবেন না বলে হুঁশিয়ারি দেন। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভুক্তভোগী প্রশিক্ষক লুনা বেগম, হিসাবরক্ষক সিলভিয়া নাসরিন, প্রশিক্ষক জান্নাতুল আয়শা জেলি, অফিস সহায়ক মকবুল হোসেন, বোদা উপজেলা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক আক্তারুল ইসলাম, দেবীগঞ্জ কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক সাইফুল ইসলাম ও সাবেক সঙ্গীত শিক্ষক জুথি আক্তার।
ইউটি/টিএ