কাজের সময় নির্ধারণে দীপিকার পাশে কারিনা ও অনন্যা
ছবি: সংগৃহীত
০৩:১৩ এএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
বলিউডে কাজের সময়সীমা ও ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনের আট ঘণ্টা কাজের প্রস্তাব ঘিরে এখন সরব হয়েছেন আরও কয়েকজন তারকা। সেই তালিকায় আছেন করিনা কাপুর খান ও অনন্যা পাণ্ডে। তাঁদের মতে, কাজের সময় ও ব্যক্তিগত সীমারেখা নিয়ে আগে থেকেই স্পষ্ট কথা বলা প্রয়োজন।
সম্প্রতি এক আলোচনায় করিনা কাপুর খান বলেন, একজন অভিনেতা বা অভিনেত্রী যদি বিবাহিত হন কিংবা সন্তানের দায়িত্ব থাকে, তবে কাজের সময়সূচি নিয়ে শুরুতেই নিজের মতামত জানানো উচিত। তাঁর মতে, কোনও ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই নির্মাতাদের সঙ্গে এই বিষয়গুলো পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। পরে কাজ শুরু হওয়ার পর এ নিয়ে বিরোধ তৈরি হলে তা পুরো প্রকল্পের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
একই সুরে কথা বলেছেন অনন্যা পাণ্ডেও। দীপিকার বক্তব্যকে সমর্থন করে তিনি বলেন, মা হওয়ার পর একজন অভিনেত্রীর জন্য কাজের সময়ের বিষয়ে নতুন করে ভাবা স্বাভাবিক বিষয়। প্রযোজকদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করে এমন একটি সময়সূচি ঠিক করা সম্ভব, যাতে কাজও এগোয় এবং ব্যক্তিগত জীবনও সামলে নেওয়া যায়।

দীপিকা পাড়ুকোনের মন্তব্য থেকেই মূলত এই বিতর্কের সূত্রপাত। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রজগতে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর কাজের সময়কে অনেক সময় নিষ্ঠার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বাস্তবে তা সবসময় স্বাস্থ্যকর নয়। তাঁর মতে, মানুষের শরীর ও মন সুস্থ রাখতে আট ঘণ্টা কাজই যথেষ্ট। অতিরিক্ত চাপ শেষ পর্যন্ত ব্যক্তি ও কাজ দুইয়ের জন্যই ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।
এই প্রসঙ্গে আরও একটি বিষয় সামনে এনেছেন দীপিকা। কর্মজীবী মায়েদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরির কথা বলেন তিনি। তাঁর মতে, ছবির সেটে শিশুদের উপস্থিতি বা মায়েদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাকে স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে মেনে নেওয়া উচিত।
কাজের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন দীপিকা। গত কয়েক বছরে একাধিক বড় ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। সামনে তাঁর নতুন ছবিতেও বড় চমকের ইঙ্গিত মিলছে, যেখানে শাহরুখ খান ও সুহানা খানের সঙ্গে তাঁকে দেখা যেতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।
দীপিকার মন্তব্য ঘিরে শুরু হওয়া এই আলোচনা এখন বলিউডের কাজের সংস্কৃতি নিয়েই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে নির্মাতা ও শিল্পীদের। অনেকেই মনে করছেন, সুস্থ কর্মপরিবেশ ও নির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে আলোচনা ভবিষ্যতে চলচ্চিত্রশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।
এসএস/টিএ