আলভী ও তিথির ‘গ্রেপ্তারের’ বিষয়ে জানা গেল নতুন তথ্য
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৫ পিএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসায় আত্নহত্যা করেন অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী। এ ঘটনায় আলভীসহ দুজনের বিরুদ্ধে করা আত্মহত্যার প্ররোচণার মামলা হয়েছে। পরিপ্রেক্ষিতে আলভী গ্রেফতার হয়েছেন এমন একটি দাবির সঙ্গে একাধিক ছবি-ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এদিকে ‘অবশেষে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হলেন আলভির পরকীয়া প্রেমিকা ইফফাত আরা তিথি.!’ একটি ছবি ইন্টারনেটে বিভিন্ন প্লাটফর্মে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমার স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিন্ন একজন ব্যক্তির ছবিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে বাংলা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইটে ২০২৫ সালের ২৫ মে ‘আওয়ামী লীগ নেত্রীকে অবরুদ্ধ করে পুলিশে সোপর্দ’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবিটির আংশিক সাদৃশ্য রয়েছে।
ওই ছবিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ছবিতে থাকা নারীর পোশাক, অঙ্গভঙ্গি এবং তার আশেপাশে থাকা অন্যান্য ব্যক্তি ও পারিপার্শ্বিকতার সঙ্গে আলোচিত ছবিটির মিল থাকলেও উভয় ছবিতে থাকা নারীর মুখমণ্ডলে ভিন্নতা রয়েছে।

উক্ত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৪ মে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাশিপুর ফরাজীকান্দা এলাকার একটি ভাড়া বাড়ি থেকে অবরুদ্ধ অবস্থায় আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার তুশিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিলে উত্তেজিত জনতা ওই নেত্রীকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারে ও ভুয়া ভুয়া বলে স্লোগান দেয়। প্রতিবেদনটি সংযুক্ত ছবিতে থাকা ওই নারী আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার তুশি।
অর্থাৎ, উক্ত ছবিতে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আওয়ামী লীগ নেত্রী রজনী আক্তার তুশির মুখমণ্ডলের স্থলে অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথির মুখমণ্ডল প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে, এ বিষয়ে অন্যান্য গণমাধ্যমে (১, ২, ৩) প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবি পর্যবেক্ষণ করেও একই তথ্য পাওয়া যায়।
এছাড়া, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে গ্রেফতার করা হলে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে গুরুত্ব সহকারে সংবাদ প্রচারিত হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তাছাড়া, ইফফাত আরা তিথির ফেসবুক প্রোফাইল পর্যবেক্ষণ করে তাকে ফেসবুকে নিয়মিত সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।
সুতরাং, অভিনেত্রী ইফফাত আরা তিথিকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পাদিত।
ফ্যাক্টচেক
এদিকে আলভী গ্রেফতার হওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, একাধিক এআই ছবি-ভিডিওর মাধ্যমে ভুয়া দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে যাহের আলভী গ্রেফতার সংক্রান্ত কোনো তথ্য গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যায়নি। দেশের একটি গণমাধ্যমর গত ৫ মার্চের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, আলভী দেশে নেই। তিনি নেপালে অবস্থান করছেন।
পল্লবী থানার ওসি একেএম আলমগীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, নাটকের শুটিং টিম ঢাকায় এসেছে। আলভীর পরকীয়া প্রেমিকা (ইফফাত আরা তিথি) ঢাকায় এসেছেন, কিন্তু তিনি আসামি নন। এই মামলার আসামি আলভী এবং তার মা। পুলিশ বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন বিভাগে খোঁজখবর নিয়েছে, তারা দেশে আসেননি।
এ দাবিগুলো প্রচার পরবর্তী সময়ে আলভীর ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়, যেখানে তিনি তার স্ত্রী প্রসঙ্গে আলাপ করেন। গ্রেফতার হলে তার পক্ষে স্বাভাবিকভাবেই ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া সম্ভব ছিল না।
পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রচারিত ছবি ও ভিডিওগুলো এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি কিনা তা যাচাই করতে রিউমার স্ক্যানার গুগলের বিশেষ শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ‘SynthID’ ব্যবহার করে। একটি ছবি সিন্থআইডি দিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এটি গুগলের এআই প্রযুক্তির সহায়তায় তৈরি।
এছাড়াও, বাকি দুই ছবি-ভিডিও আরেক এআই কনটেন্ট শনাক্তকারী প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভ ডিটেক্ট’ এর সাহায্যে যাচাই করলে সেগুলোও এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার পক্ষে মত দিয়েছে।
এসএন