সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি আমরা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত
১১:২১ পিএম | ১০ মার্চ, ২০২৬
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘আমরা সংবিধান মেনেই এই পর্যন্ত এসেছি এবং সংবিধান মেনে চলছি। সামনেও সংবিধান মেনে চলার আশা রাখি। সাংবিধানিক পদ্ধতি মেনেই বিএনপির নির্বাচিতরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কোনো বিধান সংবিধানে নেই।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের পর ‘সংবিধা্ন সংস্কার পরিষদের শপথকে ‘জবরদস্তিমূলক শপথ’ বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।’
মঙ্গলবার এক আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলণায়তনে ‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবী সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি আমরা শতভাগ অঙ্গীকারাবদ্ধ। এটা রাজনৈতিক সমঝতার দলিল। আমরা তাতে স্বাক্ষর করেছি। বরং যারা সমালোচনা করছে তারা স্বাক্ষর করেছে এই গত কয়েকদিন আগে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য ছিল যদি গণভোটের রায়কে আমরা সম্মান দিতে চাই, জাতীয় সংসদে আগে যেতে হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আইন প্রণয়ন করতে হবে। সংবিধানে সেটা (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। তারপরে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হয় সেটা সেখানেই নির্ধারণ করা হবে। কোন ফরমে শপথ হবে সেটা তৃতীয় (সংবিধানের) তফসিলে আনতে হবে। কে শপথ বাক্য পাঠ করাবে সেটা নির্ধারিত হলে পরে এটা বিধিসম্মত হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তো জুলাই জাতীয় সনদকে অস্বীকার করি না। জুলাই জাতীয় সনদের প্রত্যেকটা শব্দকে-অক্ষরকে আমরা ধারণ করি।আমরা সেটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। জাতির কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি, আমরা সেটা বাস্তবায়ন করব। এমনকি সেই প্রতিশ্রুতির বাইরেও আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে বিএনপি যে সমস্ত ইশতেহার প্রণয়ন করে জনগণের ম্যান্ডেট লাভ করেছে সেই সমস্ত ইশতেহারও যা কিছু আছে তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধানের বাধ্যবাধকতা আছে যেদিন জাতীয় সংসদ বসবে সেই প্রথম সেশনে আমরা সাংবিধানিকভাবে এই ১৩৩ টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করতে বাধ্য। কিন্তু সেই ১৩৩ টি অধ্যাদেশের কোনটা কিভাবে গৃহীত হবে, কোনটার নোটিফিকেশন কিভাবে হবে, কোনটা সংশোধন হবে, কোনটা ল্যাপস হয়ে যাবে, কোনটা এজ ইট ইজ (হুবুহু) অ্যাপ্রুভ (পাশ) করা হবে সেটা জাতীয় সংসদের এখতিয়ার। সেটা তখন দেখা যাবে।’
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা স্বপ্নে দেখেন কিভাবে? স্বপ্ন দেখারও তো একটা সীমারেখা আছে! যেই দল মনে করে যে, তারা সরকার গঠন করতে পারতো, তাদেরকে হারানো হয়েছে এই স্বপ্ন দেখাও তো নাজায়েজ। যাই হোক গণতন্ত্রের মাঠে অনেকে অনেক কথা বলবে, আমরা এগুলো শুনব। কারণ, এগুলো শোনার জন্যই তো আমরা জীবন দিয়েছি। এগুলো বলার জন্যই তো আমরা গণ-অভ্যুত্থান করেছি। সবাই সবকিছু বলবে, বিতর্ক হবে, বাহাস হবে। আসুন জাতীয় সংসদের ভিতরে ঢুকে যাই। ওখানে সমস্ত বিতর্ক হবে এবং আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়ে যেটা জনগণ চাইবে, যেটা আইনানুগ হবে যেটা সাংবিধানিক হবে সেটাই হবে।’
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন এমপি। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন সম্পাদক ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সুপ্রিম কোর্ট শাখার সভাপতি বদরুদ্দোজা বাদল।
এমআর/টিএ