অনন্যা-সুকান্তর বিয়ে নিয়ে চরম বিতর্ক!
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩২ এএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
বাগদান থেকে আইনি বিয়ে সেরেছিলেন পঁচিশ সালেই। এবার সামাজিক মতে অগ্নিসাক্ষী রেখে সাতপাকে বাঁধা পড়লেন ইনফ্লুয়েন্সার জুটি সুকান্ত কুণ্ডু এবং অনন্যা গুহ। মাসকয়েক ধরেই বিয়ের প্রস্তুতির নানা ঝলক সোশাল মিডিয়ায় তুলে ধরছিলেন হবু দম্পতি। এবার অবশেষে ফাল্গুনী সন্ধেয় মধুরেণ সমাপয়েৎ।
বিয়ের রীতি-আচার, সাজসজ্জা থেকে খানাপিনা, সবেতেই আদ্যোপান্ত বাঙালিয়ানা বজায় রেখেছেন অনন্যা-সুকান্ত। সাবেকি সাজে আলতা অনুষ্ঠানও পালন করেন অনন্যা। যে সাজ দেখে প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন নেটবাসিন্দারাও। গোমাংস বিতর্ক সরিয়ে দুই বন্ধুর বিয়েতে হাজির হয়েছিলেন সায়ক চক্রবর্তীও।
সোমবার সকালেই গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে অনন্যা-সুকান্তর নানা রোম্যান্টিক মুহূর্ত ফ্রেমবন্দি হয়। চিরাচরিত হলুদ পোশাকে না সাজলেও জুটির ফ্যাশন সেন্স কিন্তু বেজায় প্রশংসিত হয়েছে। কিন্তু এহেন আনন্দঘন মুহূর্তের মাঝে আচমকাই ইনফ্লুয়েন্সার জুটির বিয়ে নিয়ে নানা কটাক্ষ, সমালোচনার ভিড় নেটপাড়ায়। কিন্তু কেন?
অনন্যা-সুকান্তর বিয়েতে হাজির থাকা ছবিশিকারীদের দাবি, বিয়ের অনুষ্ঠানে অভব্য আচরণের শিকার হতে হয়েছে তাঁদের। কীরকম? ভাইরাল হওয়া একাধিক পোস্টে দাবি, শৌচালয়ে যেতে গেলেও বাউন্সার নিয়ে যেতে হচ্ছিল। এমনকী তাঁদের জন্য কোনও জলের ব্যবস্থাও রাখা হয়নি। অভিযোগের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়!

খবর, বিয়ের আসরে যাতে অনন্যা-সুকান্তর ছবি তুলতে না পারেন ছবিশিকারীরা, তার জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রের মতো কড়া পাহাড়ায় ছিল বাউন্সাররা। ভাইরাল পোস্ট অনুযায়ী, ওই রাতে অনুষ্ঠান বাড়িতে শৌচাগারটুকু ব্যবহার করতে পারেননি তাঁরা। কারণ হঠাৎ করেই নির্দেশিকা আসে যে, মহিলা সাংবাদিকদের সঙ্গে একজন করে পুরুষ বাউন্সার সঙ্গে যাবেন। শৌচাগারের বাইরে দাঁড়াবেন যাতে সেখান থেকেও ফুটেজ না নেওয়া হয়।
জানা গেল, শুরুর দিকে কোনও গোলমাল না হলেও দুই পক্ষের আত্মীয়-স্বজন বিবাহ আসরে উপস্থিত হলে ছবিশিকারীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরিবর্তে তাঁদের ঠাঁই হয় রাস্তায়। একাংশের অভিযোগ, খাওয়ার ব্যবস্থা তো দূরঅস্ত, এক গ্লাস জল চেয়েও পাওয়া যায়নি! তবে বিতর্ক এখানেই শেষ নয়!
তাঁদের কথায়, অনন্যা-সুকান্ত প্রথমটায় ঠিক করেছিলেন, ছবি তোলা যাবে, কিন্তু সেটা আপলোড করা হবে তিন থেকে চার দিন পর। অথচ গতকালের বিয়েবাড়িতে ব্যাপারটাই উলটে যায়। অভিযোগ, পরে তাঁদের জানানো হয়, আগে অনন্যা নিজে তার ভ্লগে লুক রিভিল করবেন, তারপর ছবিশিকারীরা।
আতিথেয়তার রকমফের নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অনেকে। কারও কারও দাবি, আমন্ত্রিত স্পেশাল গেস্ট বা ভ্লগারদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা বরাদ্দ ছিল। তবে বাকিরা সেই যত্ন পাননি। এহেন নানা অভিযোগ তুলে সোশাল পাড়ায় আপাতত অনন্যা-সুকান্তর বিয়ে নিয়ে চরম বিতর্ক!
যদিও একাংশ আবার 'অযত্ন বা অভব্য আচরণে'র তত্ত্বে সায় দিতে নারাজ! তাঁরা বরং নববিবাহিত দম্পতিকে শুভেচ্ছায় ভরিয়েছেন। তবে ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে কানাঘুষো, অভিনেত্রীর বাগদানের দিনও নাকি এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
সম্প্রতি সায়ক চক্রবর্তীর গোমাংস কাণ্ডে নাম জড়িয়ে চর্চার শিরোনামে ঠাঁই পেয়েছিলেন অনন্যা-সুকান্ত। এবার ইনফ্লুয়েন্সার জুটির বিয়েতেও পিছু ছাড়ল না বিতর্ক!
কেএন/এসএন