© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

হরমুজ প্রণালীতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা

শেয়ার করুন:
হরমুজ প্রণালীতে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে হামলা

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৫:০১ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
পারস্য উপসাগরে হরমুজ প্রণালীর কাছে আজ বুধবার (১১ মার্চ) সকাল থেকে পরপর তিনটি কার্গো জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা এই হামলা চালিয়েছে তা স্পষ্ট নয়। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে সামুদ্রিক নৌ চলাচল দেখভালকারী ব্রিটিশ সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসের (ইউকেএমটিও) বরাতে এ খবর জানিয়েছে সিএনএন।

মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সবশেষ জাহাজটি দুবাইয়ের উপকূল থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে হামলার শিকার হয়েছে। তবে জাহাজটির নাবিকেরা নিরাপদ আছেন এবং জাহাজটির তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এর কয়েক ঘণ্টা আগে ওমানের মুসান্দাম উপদ্বীপের প্রায় ১১ নটিক্যাল মাইল উত্তরে হামলার শিকার অপর একটি জাহাজ। হামলার পর জাহাজটিতে আগুন লাগে। এরপর জাহাজটি সহায়তা চেয়ে জরুরি আবেদন জানায়। এরপরর নাবিকদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।

ইউকেএমটিওর তথ্য মতে, এর আগে আজ ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলের কাছে আরেকটি জাহাজ ‘অজ্ঞাত বস্তুর’ আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ নিয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীর কাছে এখন পর্যন্ত ১৩টি জাহাজ আক্রমণের শিকার হয়েছে।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন শুরুর পরই ইরানি সামরিক বাহিনী এই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং কার্যত বন্ধ করে দেয়।

চীন ও রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশের জাহাজ ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের জাহাজগুলোর জন্য এই পথ দিয়ে চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে মাইন বসাচ্ছে ইরান। প্রতিবেদন মতে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকার ধারণ করেনি। গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে।

এমন খবরের পর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে বলেন, ‘ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে, তবে সেগুলো এখনই সরিয়ে ফেলতে হবে। যদিও আমাদের কাছে এমন কোনো খবর নেই যে তারা মাইন বসিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, যদি মাইন স্থাপন করা হয় এবং তা সরানো না হয়, তবে ইরানকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে তিনি এও বলেন যে, তেহরান যদি মাইনগুলো সরিয়ে নেয়, তবে এটি হবে একটি সঠিক পদক্ষেপ।

ট্রাম্পের পোস্টের পর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে জানান, ট্রাম্পের নির্দেশে ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) হরমুজ প্রণালিতে থাকা মাইন স্থাপনকারী জাহাজগুলোকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ধ্বংস করছে। তিনি বলেন, আমরা হরমুজ প্রণালি জিম্মি করতে দেব না।

আইকে/টিএ


মন্তব্য করুন