সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে ফিরে পেতে কলকাতা হাইকোর্টে বাংলাদেশি যুবক
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৬ পিএম | ১১ মার্চ, ২০২৬
ভালোবাসার মানুষকে জীবনসঙ্গিনী হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। কিন্তু বিয়ের এক মাস কাটতে না কাটতেই শুরু হয় বিচ্ছেদ-যন্ত্রণা। শ্বশুরবাড়ির লোকেদের হাত থেকে অপহৃত স্ত্রীকে উদ্ধার করতে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন বাংলাদেশের নরসিংদীর যুবক অরিজিৎ সরকার। অভিযোগ, তার স্ত্রী মমি সাহাকে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে ভারতে এনে আটকে রাখা হয়েছে।
পেশায় ব্যবসায়ী অরিজিৎ সরকার জানান, ঢাকার নরসিংদী সদরের বাসিন্দা মমি সাহার সঙ্গে তার দীর্ঘ দু'বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের অমতেই ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। অরিজিতের দাবি, বিয়ের মাসখানেক পরেই মমির পরিবার তাকে অপহরণ করে আগরতলা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠিয়ে দেয়।
অরিজিতের অভিযোগ অনুযায়ী, মমিকে বর্তমানে উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি এলাকায় পলি সাহা ও উত্তম সাহা নামে দুই আত্মীয়ের বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। অরিজিৎ জানান, ওই ব্যক্তিরা আদতে বাংলাদেশের নাগরিক হলেও অবৈধভাবে ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে কলকাতায় বসবাস করছেন।
নিখোঁজ হওয়ার ১৫ দিন পর মমি কোনোভাবে হোয়াটসঅ্যাপে অরিজিতের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানান যে তাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। স্ত্রীর আকুতি শুনে গত ৩ জানুয়ারি ভিসা নিয়ে ভারতে আসেন অরিজিৎ। পরদিন বিরাটির ওই বাড়িতে স্ত্রীকে নিতে গেলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আক্রান্ত হওয়ার পর অরিজিৎ স্থানীয় নিমতা থানার দ্বারস্থ হলেও পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করে বলে তার দাবি। এমনকি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে চিঠি দিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। শেষ পর্যন্ত আইনজীবী মুকুল বিশ্বাসের সহায়তায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছেন তিনি।
অরিজিতের আইনজীবী জানান, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। একজন বিদেশি নাগরিককে এভাবে আটকে রাখা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আগামী ১৭ মার্চ হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
আইকে/টিএ