বড় হয়ে গেলে কেন একাকিত্ব বাড়ে?
ছবি: সংগৃহীত
১০:৩৩ এএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
শৈশবের দিনগুলোতে একা লাগা বলতে কিছু ছিল না। বিকেলের মাঠ, স্কুলের বন্ধুরা, ছুটির দুপুরে পরিবারের হাসি সবকিছু যেন আপনা-আপনি ভরিয়ে রাখত মন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়লেও, অদ্ভুতভাবে ভেতরের শূন্যতাও যেন একটু একটু করে জায়গা করে নেয়। কেন এমন হয়?
প্রথমত, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব বাড়ে। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার সবকিছুর ভার কাঁধে নিতে নিতে আমরা ধীরে ধীরে নিজের ভেতরের শিশুটাকে হারিয়ে ফেলি। আগের মতো হুটহাট বন্ধুর বাসায় চলে যাওয়া, রাতভর গল্প করার সুযোগ থাকে না। সময়ের ক্যালেন্ডার আমাদের সম্পর্কগুলোকে ধীরে ধীরে দূরে সরিয়ে দেয়।
দ্বিতীয়ত, সম্পর্কের সংজ্ঞাও বদলে যায়। ছোটবেলায় বন্ধুত্ব ছিল সহজ, সরল। বড় হলে সেখানে যুক্ত হয় প্রত্যাশা, ব্যস্ততা, কখনও স্বার্থও। সবাই নিজের জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে এক সময় বুঝতে পারি ফোন বুকে অনেক নাম থাকলেও মন খুলে কথা বলার মানুষ খুব কম।
আরেকটি কারণ হলো আত্মসচেতনতা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা নিজেদের নিয়ে বেশি ভাবতে শিখি। নিজের অপূর্ণতা, ব্যর্থতা, না পাওয়া এসব বিষয় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আগে যেসব কষ্ট সহজে ভুলে যেতাম, এখন সেগুলো গভীর ছাপ ফেলে। ভিড়ের মাঝেও তখন মনে হয়, “আমাকে বুঝবে এমন কেউ কী আছে?”
ডিজিটাল যুগও একাকীত্বের অনুভূতি বাড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় সবাইকে সুখী, সফল আর হাসিখুশি দেখতে দেখতে নিজের জীবনকে তুলনা করি। এই তুলনাই এক ধরনের নীরব একাকীত্ব তৈরি করে।
তবে একা লাগা মানেই দুর্বলতা নয়। বরং এটা প্রমাণ করে, আমরা অনুভব করতে জানি। বড় হওয়ার এই একাকীত্ব আমাদের শেখায় নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে, নিজের ভালো লাগা খুঁজে নিতে, নিজের শক্তিটা চিনে নিতে। হয়তো বন্ধুর সংখ্যা কমে যায়, কিন্তু সম্পর্কগুলো গভীর হয়।
বড় হয়ে গেলে একা লাগা বাড়ে, কারণ আমরা তখন শুধু পৃথিবী নয়, নিজের ভেতরের পৃথিবীর সঙ্গেও পরিচিত হই। ভেতর থেকে নিজেকে বুঝার চেষ্টা করি।
এমকে/এসএন