সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত ‘দ্যা রিপ’, দর্শকের আগ্রহ তুঙ্গে
ছবি: সংগৃহীত
১০:৫৯ এএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের বন্ধুত্ব বহু দিনের। দীর্ঘ সময় ধরে একসঙ্গে কাজ করে তাঁরা হলিউডে তৈরি করেছেন এক ভিন্ন পরিচিতি। এই দুই বন্ধু যখনই কোনো সিনেমায় একত্র হয়েছেন, দর্শকের সামনে এসেছে নতুন কিছু। সেই ধারাবাহিকতায় এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। তাঁদের নতুন সিনেমা ‘দ্য রিপ’ মুক্তির পর থেকেই দর্শক ও সমালোচকদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। দর্শকদের অনেকেই বলছেন, ছবিটি যেন নব্বইয়ের দশকের সেই পুরোনো আবহ আবার ফিরিয়ে এনেছে।
সিনেমাটির গল্পের পেছনে রয়েছে এক বাস্তব ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি লেকস এলাকার একটি আবাসিক বাড় পামগাছে ঘেরা শান্ত পরিবেশের সেই বাড়িটি বাইরে থেকে দেখলে একেবারেই সাধারণ মনে হয়। কিন্তু ২০১৬ সালের ২৯ জুন ওই বাড়িতেই ঘটে এমন একটি ঘটনা, যা পরে আলোচনায় আসে দেশজুড়ে।
সেদিন মায়ামি পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিস ক্যাসিয়ানো ও তাঁর নেতৃত্বে একটি দল সেখানে তল্লাশি চালায়। কয়েক বছর ধরে চলা মাদক পাচার সংক্রান্ত একটি তদন্তের শেষ ধাপ হিসেবে ওই অভিযানের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু বাড়ির ভেতরে ঢুকেই পুলিশ সদস্যরা এমন কিছুর মুখোমুখি হন, যা পুরো ঘটনার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
বাড়িতে ঢোকার পর হঠাৎ চিলেকোঠা থেকে ভেঙে পড়ে দেয়ালের অংশ। পরে দেখা যায়, সেটি আসলে একটি ভুয়া দেয়াল। সেই দেয়ালের আড়ালেই ছিল একটি গোপন কক্ষ। সেখানে রাখা ছিল কমলা রঙের ২৪টি বড় বালতি। প্রতিটি বালতিই ভর্তি ছিল ১০০ ডলারের নোটের বান্ডিলে। সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় দুই কোটি চল্লিশ লাখ ডলার। পুলিশ বিভাগের অর্থ জব্দের ইতিহাসে এটিই ছিল অন্যতম বড় উদ্ধার।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা প্রশ্ন ও সন্দেহ। বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘিরে তৈরি হয় অবিশ্বাসের পরিবেশ। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছে যে সংশ্লিষ্টরা বুঝে উঠতে পারেন না এই লড়াইয়ে কাকে বিশ্বাস করা উচিত আর কাকে নয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে অপরাধভিত্তিক রোমাঞ্চধর্মী সিনেমা ‘দ্য রিপ’। বাস্তব ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত ছবিটি শুধু একটি পুলিশি অভিযানের গল্প নয়। বরং বিপুল অর্থ মানুষের মনোজগৎকে কীভাবে বদলে দেয়, সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দেয় সেই দিকটিও তুলে ধরা হয়েছে এতে।
ছবিটির চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক জো কারনাহান মনে করেন, মানুষের জীবনে সম্পর্কের মূল্যই এখানে মূল বিষয়। তাঁর ভাষ্য, মানুষে মানুষে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব এবং প্রিয়জনের গুরুত্বই এই গল্পের কেন্দ্রবিন্দু।
এই সিনেমায় বেন অ্যাফ্লেক ও ম্যাট ডেমনের দীর্ঘ বন্ধুত্বও বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। বোস্টনের দুই বন্ধু, যাঁরা খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছেও নিজেদের শিকড় ভুলে যাননি তাঁদের সেই বাস্তব সম্পর্কের ছাপ সিনেমার পর্দাতেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংলাপের ফাঁকে ফাঁকে বোঝাপড়া, না বলা কথার ভেতরের টান সবই যেন সেই দীর্ঘ বন্ধুত্বের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে।
সিনেমায় সদ্য পদোন্নতি পাওয়া ইউনিটপ্রধান ডুমার্স চরিত্রে অভিনয় করেছেন ম্যাট ডেমন। অন্যদিকে তাঁর পুরোনো সহকর্মী ডিটেকটিভ সার্জেন্ট জে ডি বার্নের চরিত্রে দেখা গেছে বেন অ্যাফ্লেককে। এখন তিনি ডুমার্সের অধীনে কাজ করেন। ক্ষমতার এই পরিবর্তন তাঁদের সম্পর্কের ভেতরে তৈরি করে নতুন টানাপোড়েন। বন্ধুত্ব ও কর্তৃত্ব দুটো কি একসঙ্গে টিকে থাকতে পারে, সিনেমাটিতে সেই প্রশ্নই তুলে ধরা হয়েছে।
সমালোচকেরা বলছেন, ছবিটিতে নির্মাতা এক ধরনের চাপা উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করেছেন। এখানে গুলির লড়াই বা ধাওয়া প্রধান বিষয় নয়। বরং আসল রোমাঞ্চ তৈরি হয়েছে অপেক্ষা থেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা টাকা গোনা, তাকিয়ে থাকা এবং ভাবা এত বিপুল অর্থের সামনে দাঁড়িয়ে মানুষ আসলে কেমন হয়ে ওঠে।
পরিচালক জো কারনাহানের মতে, তিনি এই ছবিতে দেখাতে চেয়েছেন জীবনের ভঙ্গুরতা এবং সৌন্দর্য দুটিই। তবে তিনি কোনো ভারী বা গুরুগম্ভীর গল্প তৈরি করতে চাননি। তাঁর লক্ষ্য ছিল বিনোদনের আবহের মধ্যেই একটি গভীর বার্তা তুলে ধরা।
এমকে/এসএন