© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

তিশা-অথইয়ের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল?

শেয়ার করুন:
তিশা-অথইয়ের মধ্যে আসলে কী ঘটেছিল?

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১১:০৯ এএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
নাটকের শুটিং সেটে সহঅভিনেত্রীর কাছ থেকে চড় খাওয়ার অভিযোগ তুলে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব হন অভিনেত্রী সামিয়া অথই। গত মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ফেসবুক লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, মানিকগঞ্জে ‘পুতুলের বিয়ে’ নামের একটি নাটকের শুটিং চলাকালে অভিনেত্রী তানজিন তিশা তাঁকে চড় মেরেছেন।

লাইভে সামিয়া অথই দাবি করেন, দৃশ্যের মধ্যেই তাঁকে চড় মেরেছেন তিশা। এতে তাঁর গাল ও চোখ ফুলে গেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা ও বিতর্ক।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিন তিশা দাবি করেছেন, তিনি চরিত্রের প্রয়োজনেই ওই দৃশ্যে অভিনয় করেছেন। তাঁর ভাষ্য, চিত্রনাট্যের মধ্যেই থেকে তিনি অভিনয় করেছেন এবং চরিত্রের বাইরে কিছু করেননি।

ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে অভিযোগকারী সামিয়া অথই, অভিযুক্ত তানজিন তিশা এবং নাটকটির পরিচালক রাফাত মজুমদারসহ শুটিং সেটে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে গণমাধ্যম।

জানা গেছে, মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মাইলাগী গ্রামে মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে ‘পুতুলের বিয়ে’ নাটকের শুটিং শুরু হয়। শুটিংয়ের শুরুতে সামিয়া অথই, মীর রাব্বীসহ কয়েকজন শিল্পীর দৃশ্য ধারণ করা হয়। পরে বেলা তিনটার দিকে ছিল তানজিন তিশা ও সামিয়া অথইয়ের যৌথ দৃশ্য।

সামিয়া অথইয়ের দাবি, চিত্রনাট্য অনুযায়ী ওই দৃশ্যে তাঁর তানজিন তিশাকে একটি চড় মারার কথা ছিল এবং তিনি সেটিই করেছেন। কিন্তু এরপর তানজিন তিশা তাঁকে একাধিক চড় মারেন, যা চিত্রনাট্যে ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে পরিচালক রাফাত মজুমদার বলেন, চিত্রনাট্যে মূলত তানজিন তিশাকে চড় মারার কথা ছিল সামিয়া অথইয়ের। তবে চূড়ান্ত মহড়ার সময় সেই চড়ের অংশটি বাদ দেওয়া হয়। তার পরিবর্তে অথইয়ের বকা দেওয়ার কথা ছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অথইয়ের বকা খেয়ে তিশার প্রতিক্রিয়া দেখানোর কথা ছিল এবং প্রয়োজনে অথইকে ধাক্কা দেওয়ার দৃশ্য থাকতে পারত। তবে অথই যেহেতু তিশাকে চড় মেরেছেন, সেই পরিস্থিতিতে তিশাও প্রতিক্রিয়ায় চড় মেরেছেন।

তবে সামিয়া অথই এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন। তাঁর দাবি, চড়ের অংশটি বাদ দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিচালক সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে জানান, দুজনের আলাদা মহড়ার সময় চড়ের কোনো বিষয় ছিল না।



অথই আরও বলেন, তানজিন তিশার সঙ্গে দৃশ্যটির কোনো মহড়াও হয়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দৃশ্যে তিনি আলতো করে চড় মারবেন এবং এরপর তিশা সেখান থেকে চলে যাবেন—এমনটাই ছিল পরিকল্পনা। সেখানে তিশার চড় মারার কথা ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শুটিং সেটে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শীও জানিয়েছেন, সামিয়া অথই একটি চড় মারার পর তানজিন তিশা তাঁকে একাধিকবার চড় মারেন।

তবে তানজিন তিশা বিষয়টি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি বলেন, তিনি পুরোপুরি নিজের চরিত্র অনুযায়ী অভিনয় করেছেন। নাটকে তিনি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এক চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং চিত্রনাট্যে যতটুকু ছিল, ততটুকুই করেছেন। চরিত্রের বাইরে কিছু করেননি বলেও দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পরপরই শুটিং সেট ত্যাগ করেন সামিয়া অথই। এ বিষয়ে তিনি বলেন, একটি গ্রামে গিয়ে শুটিং করছিলেন এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত বলে আশঙ্কা করেছিলেন। নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন এবং পরে আর সেটে ফেরেননি।

পরিচালক রাফাত মজুমদার জানিয়েছেন, ঘটনাটি শুটিং সেটেই মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তা সফল হয়নি।

এদিকে সামিয়া অথইয়ের ফেসবুক লাইভকে কেন্দ্র করে একটি বিবৃতি দিয়েছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটি জানিয়েছে, কোনো সদস্যের সঙ্গে মতভেদ বা জটিলতা তৈরি হলে তা সংশ্লিষ্ট সংগঠনকে না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গণমাধ্যমে প্রচার করা সংগঠনের আচরণবিধির পরিপন্থী। সংগঠনটির মতে, এমন বিষয় সাংগঠনিকভাবেই সমাধান হওয়া উচিত।

পরিচালক রাফাত মজুমদারও মনে করেন, বিষয়টি সাংগঠনিকভাবে সমাধান হওয়াই ভালো।

এদিকে গতকাল দুপুরে সামিয়া অথই জানান, তিনি অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের কাছে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই অভিযোগের পর বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর সংশ্লিষ্টদের।

এমকে/এসএন

মন্তব্য করুন