© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো

শেয়ার করুন:
বিশ্ব বাজারে তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালো

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
১২:৫৩ পিএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে ইরানের ব্যাপক হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে পৌঁছেছে। মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প 'কাজ শেষ করার কথা উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরই তেহরান পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে অর্থনৈতিক লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক হামলা জোরদার করেছে।

এ সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালী ও এর আশেপাশের বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে যে, কাছাকাছি দুটি তেল ট্যাংকারে হামলার পর ইরাক তাদের সব তেল বন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। পাশাপাশি, মুহাররাক গভর্নরেটের জ্বালানি ট্যাংকারে হামলার পর বাহরাইন কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকদের নিরাপদে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ওমানেও; অন্য একটি বন্দরে ড্রোন হামলার পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ভারা তাদের মূল তেল রপ্তানি টার্মিনাল 'মিনা আল ফাহাল' থেকে সব জাহাজ সরিয়ে নিয়েছে।

বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সংকট কাটাতে আইইএ বুধবার (১১ মার্চ) তাদের ৩২ সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে ৪০০ মিলিয়ন ব্যারেল জরুরি অপরিশোধিত তেল ছাড়ার নির্দেশ দেয়, যা সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রিজার্ভ ছাড়ার ঘটনা। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সহিংসতা বৃদ্ধি এবং তেহরানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ আরও তীর হয়েছে এবং এ রিজার্ভ ছাড়ার ইতিবাচক প্রভাব দ্রুতই ম্লান হয়ে গেছে।

এর ফলে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০০.২৯ ডলারে এবং মার্কিন অপরিশোধিত ভেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ৮.৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪.৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে গত সোমবার, চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো তেলের দাম তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছিল। জ্বালানি বাজারের এই অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে এশিয়ার শেয়ার বাজারগুলোতেও: জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১.৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোম্পি ১.২ শতাংশ কমে গেছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ রয়েছে, যেখান দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ ভেল ও সমুদ্রগামী গ্যাস ট্যাংকার যাতায়াত করে। সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীটি এভাবে অবরুদ্ধ থাকলে বিশ্ববাজারে 'বিপর্যয়কর পরিণতি' নেমে আসবে।

অন্যদিকে, দাম বাড়ার পর ইরানের সামরিক কমান্ড যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি হুঁশিয়ার করেছে। একজন ইরানি মুখপাত্র বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে এখন ব্যারেল প্রতি ২০০ ডলার তেলের দাম দেখার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

জ্বালানি সংকটের এই ধাক্কা সামলাতে আইইএ-এর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ থেকে ১৭২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহ থেকে এই তেল বাজারে আসবে এবং সরবরাহ শেষ হতে প্রায় ১২০ দিন সময় লাগবে। বিবৃতিতে তিনি ইরানকে আমেরিকা ও তার মিত্রদের জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

টিজে/এসএন 

মন্তব্য করুন