© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ভূত বাংলোর গান ঘিরে বিতর্ক, নকল নাকি শ্রদ্ধা নিবেদন!

শেয়ার করুন:
ভূত বাংলোর গান ঘিরে বিতর্ক, নকল নাকি শ্রদ্ধা নিবেদন!

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:০৬ পিএম | ১২ মার্চ, ২০২৬
বলিউডের নতুন ছবি ‘ভূত বাংলো’ মুক্তির আগেই আলোচনায় এসেছে তার একটি গান। গানটির নাম ‘রামজি আকে ভালা কারেঙ্গে’। গানটি প্রকাশের পর থেকেই শ্রোতাদের একাংশের মনে হয়েছে, এর কিছু অংশ যেন অদ্ভুতভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী ছবি ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’-এর বিখ্যাত গান ‘ভূতের রাজা দিল বর’-কে। বিশেষ করে ‘কালা ভূত গোরা ভূত, লম্বা ভূত, ছোটা ভূত’ ধরনের কিছু পংক্তি শুনেই সেই পুরোনো গানের স্মৃতি ফিরে পাচ্ছেন অনেকে। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক এ কি সত্যিই শ্রদ্ধা নিবেদন, নাকি পুরোনো সুরের অনুকরণ?

নকলের অভিযোগ ওঠার আগেই সঙ্গীত পরিচালক প্রীতম চক্রবর্তী নিজের সমাজমাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি, গানটি আসলে সত্যজিৎ রায়ের কাজকে সম্মান জানিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ছবির নির্মাতা প্রিয়দর্শন ও অভিনেতা অক্ষয় কুমারের পক্ষ থেকেই এটি এক ধরনের শ্রদ্ধার্ঘ্য। তবে সেই ব্যাখ্যা দিয়েও বিতর্ক থামেনি। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, শুধু শ্রদ্ধা নিবেদন বললেই কি দায় শেষ হয়ে যায়? যদি মূল সৃষ্টির সঙ্গে অনেকটা মিল থেকেই যায়, তবে সেটিকে কি স্বাধীন সৃষ্টি বলা যায়?

গানটি গেয়েছেন বাঙালি শিল্পী আর্ভান। তাঁর বক্তব্য, শুরু থেকেই পরিকল্পনা ছিল গানটির একটি অংশে সত্যজিৎ রায়ের ছবির প্রতি ইঙ্গিত থাকবে। তবে তিনি দাবি করেন, মূল গানের সঙ্গে এই গানের স্বরলিপি বা সুরের কাঠামো এক নয়। মন দিয়ে শুনলে পার্থক্য ধরা পড়বে বলেই মনে করেন তিনি।



এই গানকে ঘিরে শ্রোতাদের প্রতিক্রিয়াও বেশ মিশ্র। কেউ এটিকে শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবেই দেখছেন, আবার অন্যরা সরাসরি নকলের অভিযোগ তুলছেন। অবশ্য এর আগে প্রীতমের একাধিক গান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক উঠেছিল। তাঁর সুর করা কিছু জনপ্রিয় গানের ক্ষেত্রেও বিদেশি সুরের প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

সঙ্গীত পরিচালক দেবজ্যোতি মিশ্রের মতে, ঠিক কতটা মিল হলে তাকে নকল বলা যাবে, সেই মাপকাঠি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তাঁর মতে, সৃষ্টির নেপথ্যের উদ্দেশ্যটাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, তাঁর নিজের একটি ছবির গানেও সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির প্রভাব ছিল। সেটি ছিল অনুপ্রেরণা থেকেই।

এদিকে গানের স্বত্ব ও কপিরাইটের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে এই বিতর্কে। সাইবার অপরাধ বিষয়ে কাজ করা আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায়ের মতে, কোনও গান নতুন করে প্রকাশ করার আগে স্বত্বাধিকারীর অনুমতি নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। যদিও নির্দিষ্ট মেয়াদ পেরিয়ে গেলে বা গবেষণার উদ্দেশ্যে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

এই প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায়ের পুত্র ও চলচ্চিত্র নির্মাতা সন্দীপ রায়ের মতামতও সামনে এসেছে। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গানটির জন্য তাঁদের কাছ থেকে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। তবে তিনি বিষয়টিকে বিতর্ক হিসেবে দেখছেন না। তাঁর মতে, মাত্র দু’টি লাইন ব্যবহার হয়েছে এবং সেটিকে তিনি শ্রদ্ধা নিবেদন হিসেবেই দেখছেন।

তবু প্রশ্নটা থেকে যায় সৃষ্টির জগতে অনুপ্রেরণা আর নকলের সীমারেখা ঠিক কোথায়? কেউ বলছেন এটি স্বাভাবিক অনুপ্রেরণা, আবার কেউ মনে করছেন এর মধ্যে নকলের ছাপ স্পষ্ট। ফলে ‘ভূত বাংলা’ ছবির এই গান এখন শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, সৃজনশীলতা আর স্বত্বাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।


পিআর/এসএন

মন্তব্য করুন