ভিজিএফের চালের তালিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩১ এএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত ওই চেয়ারম্যানকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে। আহত এরশাদুল হক ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।
উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অতিদরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ ব্যক্তিদের মাঝে জনপ্রতি ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় ৮৩ হাজার ৩৭০ জনের জন্য চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ধরনীবাড়ী ইউনিয়নের ৬ হাজার ৮০০ জন সুবিধাভোগী এই সহায়তা পাবেন। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউপি সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের হতদরিদ্র মানুষের তালিকা যাচাই-বাছাই করার কথা ছিল। তবে অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যান এরশাদুল হক সকালে পরিষদে এসে তার অনুসারী ও পছন্দের ব্যক্তিদের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করেন।
দুপুরে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় লোকজন পরিষদে এসে জানতে পারেন যে তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিকেলে তারা চেয়ারম্যানের কাছে তালিকা তৈরিতে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় সুবিধাভোগী বাছাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে চেয়ারম্যানের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হামলার ঘটনা ঘটে।
এ সময় চেয়ারম্যান এরশাদুল হক আহত হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।
ধরনীবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহজাহান আলী বলেন, 'পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবার সমন্বয়ে দুঃস্থদের তালিকা তৈরির কথা থাকলেও চেয়ারম্যান তার অনুসারীদের নিয়ে আগেই তালিকা তৈরি করেন। এতে বঞ্চিত জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।'
এ বিষয়ে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা চেয়ারম্যানের ছোট ভাই ওবায়দুল হক জানান, চিকিৎসার জন্য চেয়ারম্যানকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। চেয়ারম্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, 'স্বচ্ছ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়ায় ইউপি সদস্যরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।'
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মধ্যে হাতাহাতির কথা শুনেছি। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ওই ইউনিয়ন পরিষদের সব ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান এরশাদুল হকের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে আমার দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।’
এসএস/এসএন