শেখ মুজিব পরিবারের সদস্যদের জন্ম-মৃত্যু ঘিরে কোনো জাতীয় দিবস উদযাপন করবে না সরকার
ছবি: সংগৃহীত
১০:৪৪ এএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের নীতি অনুসরণ করে শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কোনো জাতীয় দিবস পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ মার্চ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মোট ৮৯টি দিবস পালনের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এসব দিবসকে এ, বি ও সি এই তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১৭টি দিবস 'এ' ক্যাটাগরিতে, ৩৭টি 'বি' ক্যাটাগরিতে এবং ৩৫টি 'সি' ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যে জাতীয় দিবসগুলো চালু করা হয়েছিল, বর্তমান সরকার সেগুলো পুনর্বহাল করবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শেখ পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েকটি দিন জাতীয় দিবস হিসেবে পালন করা হতো। এর মধ্যে ছিল ১৭ মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী, ৫ আগস্ট শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী, ৮ আগস্ট বেগম ফজিলাতুন্নেসার জন্মবার্ষিকী এবং ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী।
আওয়ামী লীগ সরকার ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করেছিল এবং এ উপলক্ষ্যে সারা দেশে সরকারি ছুটি পালন করা হতো। সর্বশেষ এই প্রজ্ঞাপনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জাতীয় দিবস পালনের বিষয়ে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ৫ আগস্ট যেদিন আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে সেই দিনটি 'জুলাই অভ্যুত্থান দিবস' হিসেবে পালন করা অব্যাহত থাকবে। এছাড়া ১৬ জুলাই 'জুলাই শহীদ দিবস' হিসেবে পালন করা হবে। এ দিনটি রংপুরে আন্দোলনের সময় নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদের স্মরণে পালন করা হবে।
অন্তর্বর্তী সরকার এই দুটি দিবস চালু করেছিল এবং বর্তমান প্রশাসনও সেগুলো বহাল রেখেছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রজ্ঞাপনে আরেকটি নতুন সিদ্ধান্ত যুক্ত করেছে। এতে লালন শাহর মৃত্যুবার্ষিকীকে 'এ' ক্যাটাগরির দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারগুলো এ ধরনের স্বীকৃতি দেয়নি।
আরেকটি পরিবর্তন হিসেবে জাতীয় বীমা দিবসের মর্যাদা আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে। আগে এটি 'বি' ক্যাটাগরিতে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকার এটিকে 'এ' ক্যাটাগরিতে উন্নীত করেছিল এবং বর্তমান সরকার সেই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, 'বি' ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত দিবসগুলো সাধারণত ঐতিহ্যগতভাবে পালন করা হয় অথবা পরিবেশ সংরক্ষণ, জাতীয় উন্নয়ন ও সামাজিক সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এসব দিবস উপলক্ষে উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে, যেখানে মন্ত্রীরা অংশ নেবেন এবং গুরুত্ব অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।
এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সরকারি তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করা যেতে পারে। অন্যদিকে 'সি' ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত ৩৫টি দিবস নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক দিবস হিসেবে সীমিত পরিসরে পালন করা হবে। প্রয়োজন মনে করলে এসব কর্মসূচিতে মন্ত্রীরা অংশ নিতে পারেন, তবে উন্নয়ন তহবিল থেকে এ জন্য কোনো বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হবে না।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে অতিরিক্ত অনেক দিবস পালন করা হয়, যেগুলোর অনেকগুলোই নিয়মিত, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং এখন আর তেমন প্রাসঙ্গিক নয়। সময় ও জনসম্পদ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপ্রয়োজনীয় দিবস পালন থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষা সপ্তাহ, প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ, বিজ্ঞান সপ্তাহ, বিশ্ব মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ এবং সশস্ত্র বাহিনী দিবসের মতো কর্মসূচি আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে নির্দেশনা নিতে বলা হয়েছে।
এছাড়া সরকার মন্ত্রণালয়গুলোকে উদযাপন সীমিত রাখার নির্দেশ দিয়েছে। জাঁকজমকপূর্ণ সাজসজ্জা, বড় সমাবেশ বা শোভাযাত্রা আয়োজন না করে সীমিত পরিসরে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম এবং বেতার ও টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এসএস/এসএন