© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

রেকর্ড পতন, সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমেছে ভারতীয় রুপির দাম

শেয়ার করুন:
রেকর্ড পতন, সর্বকালের সর্বনিম্নে নেমেছে ভারতীয় রুপির দাম

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০১:১২ পিএম | ১৩ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভারতের মুদ্রা রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, তেলের দাম উচ্চ পর্যায়ে থাকলে ভারতের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে এবং মূল্যস্ফীতিও বাড়তে পারে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, শুক্রবার মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এদিন ভারতে প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য বেড়ে ৯২.৩৯ রুপিতে নেমে গেছে। মূলত রুপি এদিন ডলারের বিপরীতে আগের দিনের ৯২.৩৫৭৫–এর রেকর্ড নিম্নস্তরকেও অতিক্রম করে। আর এর ফলে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ইতিহাসের সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেল।

মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রুপির মান ১ শতাংশের বেশি কমেছে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাজারে হস্তক্ষেপ করায় উদীয়মান অর্থনীতির অনেক দেশের মুদ্রার তুলনায় রুপি তুলনামূলকভাবে কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি অবস্থান করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত শুরুর আগে এই দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার।
অন্যদিকে ভারতে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়া এবং রুপির দুর্বলতার কারণে নতুন করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। দেশটিতে খুচরা মূল্যস্ফীতি ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ভারতের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) অনুযায়ী খুচরা মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারিতে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.২১ শতাংশে, যা জানুয়ারিতে সংশোধিত হিসাবে ছিল ২.৭৪ শতাংশ। গত প্রায় দশ মাসের মধ্যে এটি সর্বোচ্চ।

এছাড়া খাদ্য মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। এটি আগের মাসের ২.১৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ফেব্রুয়ারিতে দাঁড়িয়েছে ৩.৪৭ শতাংশে। নতুন সংশোধিত সিপিআই সূচকে ভিত্তিবছর ২০২৪ ধরা হয়েছে এবং ভোগ্যপণ্যের তালিকা ২৯৯টি থেকে বাড়িয়ে ৩৫৮টি করা হয়েছে।

এনডিটিভি বলছে, টানা চার মাস ধরে মূল্যসূচক বাড়ছে। ফেব্রুয়ারিতে সিপিআই সূচক দাঁড়ায় ১০৪.৫৭, যা জানুয়ারিতে ছিল ১০৪.৪৬। এই সময়ে সোনা ও রুপার মতো গয়নার দাম এবং টমেটো, ফুলকপি ও শুকনো নারকেলের মতো কিছু কৃষিপণ্যের দাম বেড়েছে। তবে রসুন, পেঁয়াজ, আলু ও অড়হর ডালের মতো কিছু খাদ্যপণ্যের দাম কমেছে।

সংশোধিত সিপিআই সূচকে দেখা গেছে, খাদ্যপণ্যের ওজন এখন মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশেরও কম, আর খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের অংশ ৬০ শতাংশের বেশি। গ্রামীণ অঞ্চলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩.৩৭ শতাংশ হয়েছে এবং শহরাঞ্চলে তা দাঁড়িয়েছে ৩.০২ শতাংশে। যদিও মূল্যস্ফীতি এখনও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া নির্ধারিত ২ থেকে ৬ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রয়েছে, তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ায় ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারেও চাপের মুখে রয়েছে ভারতীয় রুপি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রুপির ওপর চাপ বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে— অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় ভারতের আমদানি ব্যয় বেড়েছে, বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান অর্থনীতির সম্পদ বিক্রি করছেন এবং বিশ্বজুড়ে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হয়েছে।

ভারত তার অধিকাংশ অপরিশোধিত তেল এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বড় অংশই আমদানি করে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় সরবরাহ ও দামের বিষয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৩০ শতাংশ এবং এলপিজি আমদানির প্রায় ৯০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়।

এসএন 

মন্তব্য করুন