ধারাবাহিক প্রতিবেন । পর্ব-১ / দেশের নতুন ‘হেলথ মডেল’, থ্রি লেয়ার চেইন
ছবি: সংগৃহীত
০৭:০৫ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
পাড়ার মোড়েই মিলবে ডাক্তার। ঘরের কাছেই আধুনিক ল্যাব আর বিনামূল্যে ওষুধ। রেফারেল সিস্টেমে ভোগান্তিহীন উন্নত চিকিৎসা। বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি এক বৈপ্লবিক স্বাস্থ্য মডেল নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি জেলা বা কয়েকটি উপজেলাকে ঘিরে নতুন এই মডেল বাস্তবায়ন কাজ শুরু করবে মাস-দুয়েকের মধ্যে।
যেখানে তৃণমূল পর্যায় থেকে জেলা শহর পর্যন্ত একটি সুসংগঠিত 'রেফারেল হেলথ সিস্টেম' গড়ে তোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এটা বাস্তবে রুপ নিলে সাধারণ মানুষকে আর চিকিৎসার জন্য ঢাকা বা বড় শহরে ছুটে আসতে হবে না। নতুন এই মডেলে ডিজিটাল ডাটাবেজ ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে, যাতে একজন রোগীর আগের সব চিকিৎসার তথ্য ডাক্তার এক ক্লিকেই দেখতে পারেন।
কী আছে এই নতুন মডেলে?
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসেবাকে তিনটি প্রধান স্তরে ভাগ করা হয়েছে:
১. তৃণমূল পর্যায়ে ‘হেলথ হাব’ (Hub): একদম পাড়া বা গ্রাম পর্যায়ে থাকবে ছোট ছোট ‘হেলথ হাব’। এখান থেকে সাধারণ মানুষ প্রাথমিক পরামর্শ, টিকাদান (Immunization), পরিবার পরিকল্পনা এবং পুষ্টি বিষয়ক সেবা পাবেন। কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কাররা সরাসরি জনগণের সাথে যুক্ত থাকবেন।
২. ইউনিয়ন ও থানা পর্যায়ে ‘হেলথ সেন্টার’: কয়েকটি হাবের কেন্দ্রে থাকবে একটি করে আধুনিক ‘হেলথ সেন্টার’ বা কমিউনিটি ক্লিনিক। এখানে ডাক্তার, নার্স, ফার্মাসিস্ট এবং মিডওয়াইফরা নিয়োজিত থাকবেন। মা ও শিশু স্বাস্থ্য, সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্নদের চিকিৎসা ও থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্য এবং প্রাথমিক ল্যাব টেস্টের সুবিধা থাকবে এখানে। রোগীদের জন্য থাকবে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধের ফার্মাসি।
৩. উপজেলা ও জেলা হাসপাতালের আধুনিকায়ন (Referral System): সেন্টারে কোনো রোগীর অবস্থা জটিল মনে হলে তাকে সরাসরি -এ রেফার করা হবে। অর্থাৎ, রোগীকে সরাসরি বড় হাসপাতালে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তত্ত্বাবধানে একদল স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তৈরি এই পরিকল্পনায় স্বাস্থ্যসেবাকে তিনটি স্তরে (Primary, Secondary & Tertiary) বিন্যস্ত করা হয়েছে, যা সরাসরি তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে।
বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম আধুনিক মডেলে পরিণত হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, প্রথমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে নিয়ে এই যুগান্তকারী স্বাস্থ্য মডেলটির পাইলট প্রকল্প শুরু হচ্ছে। এরপরে ৬৪ জেলায় এটি ছড়িয়ে দেয়া হবে।
আগামী পর্বে: আসছে ই-হেলথ কার্ড, যে সেবা থাকবে...
টিকে/