© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

জামায়াতের দুর্দিন ধেয়ে আসছে : গোলাম মাওলা রনি

শেয়ার করুন:
জামায়াতের দুর্দিন ধেয়ে আসছে : গোলাম মাওলা রনি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:২২ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সামনের দিন গুলোতে বিপাকে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি। তিনি বলেছেন, ‘জামায়াতের সামনের দিনগুলো ভীষণ রকম দুর্বিসহ ও  বিপদজনক। দলটি বিভিন্নভাবে বিপত্তিতে পড়তে পারে। অসংখ্য বিপদ জামায়াতের দিকে ধেঁয়ে আসছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) নিজের ইউটিউব চ্যানেলে এক ভিডিওতে তিনি এসব কথা বলেন।


গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘গত ১৭ মাস জামায়াত বাংলাদেশে যে দাপট দেখিয়েছে সেই জায়গা থেকে পিছিয়ে গেচে। শেখ হাসিনার জামানার শেষ ছয়টি মাস জামায়াত তাদের টিম এ, বি, সি, ডি টিম সি টিম দিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে। তারা একটা সময় গর্ব করতো।

তারা গত ১৭ মাস বলত এই বিপ্লব করেছে তারা, বিপ্লবের মাস্টারমাইন্ড ইত্যাদি ইত্যাদি। বিপ্লব পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনে তারা শতভাগ বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করবে এরকম একটি বিশ্বাস ছিল। এরকম একটি দফারফা তাদের হয়েছিল। বিভিন্ন পক্ষ থেকে তারা আশ্বাস পেয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যদি নির্ভর কেউ থেকে থাকে সেই নির্ভরতা ছিল জামায়াতের মধ্যে। তাদের ভুল হয়েছে, ভ্রান্তি হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে বাড়াবাড়ি হয়েছে এটা সত্য। কিন্তু এই গত ১৭ মাসে তাদের দুশ্চিন্তা ছিল না। বরং সুন্দর একটা স্বপ্ন ছিল।

তারা এ দেশটিকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র করবে নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র করবে? নাকি তারা ডেমোক্রেটিক যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার যেভাবে চলছে সেভাবে চলবে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিল। তাদের ভাবসাবের মধ্যে একটা রয়ালিটি রাজসিকতা চলে এসেছিল সব মানুষ তাদের কাছে যেত বড় বড় ব্যবসায়ীরা ধরণা ধরতো টাকার বস্তা নিয়ে চাদার বস্তা নিয়ে হেলিকপ্টার নিয়ে তাদের পিছে পিছে ঘুরতো। যে মানুষ ঢাকা শহরে গাড়িতে চলতে পারতো না জামায়াতের লোক সে মানুষ হেলিকপ্টার করে ঘোরাফেরা করা শুরু করলো। জামায়াত নেতাদের বাসায় নতুন, নতুন ফার্নিচার আসলো। ফার্নিচার এখন জামায়াতের অফিসগুলোতে জামায়াতের অনেক নেতাদের বাসায় শোভা পাচ্ছে। আর সেই সকল ফার্নিচারের উপর বসে পায়ের উপর পা তুলে তারা বিভিন্ন ছবক দিয়েছে গত ১৭ মাস তাদের সাথে দেখা করার জন্য। কখনো তাদের বাসায় কখনো তাদের অফিসে কিংবা কখনো অন্য বিভিন্ন জায়গাতে তারা মানে রাষ্ট্রদূতদের সাক্ষাৎকার দিয়েছে, ব্যবসায়ীদের সাক্ষাৎকার দিয়েছে এবং তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠান করেছে বিভিন্ন পাস্তরাকা হোটেলে তারপরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র এখানে তারা বহু অনুষ্ঠান করেছে বিরাট রকম ঘুড়িভোজ খানাপিনা পোলাও কোরমা রোস্ট কালিয়া কোপতা থেকে মানে এজটিস যে এ দেখে কি বলব মনে হয় যেন বাসা হারুনুনা রশিদ সে শাহী ভোজ দিচ্ছে এরকম তাদের আয়োজন ছিল তারা সরকারকে ভয় দেখানোর জন্য বা সরকারকে চমক দেওয়ার জন্য বিএনপিকে থ্রেডে রাখার জন্য একটার পর একটা রাজকীয় অনুষ্ঠান তারা করেছে সমাবেশ করেছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকাতে জেলা শহরে সরদ উদ্যানে মানে এ সমস্ত দেখে মনে হয়েছে যে জামায়াতের টাকায় তিলা পড়ে গেছে।’

 তিনি বলেন, ‘জনগণ মনে করেছিল জামায়াতের অনেক টাকা রয়েছে। দীর্ঘদিন তারা সেই টাকা বাক্সবন্ধী করে রেখেছিল। এ কারণে তাদের সেই টাকায় অনেক সময় তিলা পড়ে যায় (দাগ পড়ে যায়)। তো মানুষ তাদের ভেবে বসল যে ওরা হলো অনেক পুরনো ধনী। ওদের টাকায় তিলা পড়ে গেছে। তো জামায়াত এমনভাবে টাকা পয়সা খরচ করছিল। তারা এমনভাবে চালচলন করছিল দেখে মনে হচ্ছিল যে তাদের টাকায় তিলা পড়ে গেছে। অর্থবৃত্তির একটা পর্যায়ে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে আসার পর জামায়াতের রাজনীতি ঘুরে যায় উল্লেখ করে গোলাম মাওলা রনি বলেন, ‘তারেক রহমান যখন বাংলাদেশে আসলেন অমনি জামায়াতের বেলুন ফুস করে ফেটে গেল। কেউ কেউ বললেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান লোকজন আর পাত্তা দিতে চায় না। তারপরে তারেক রহমানের ভূমিধস বিজয়। তারপর সরকার গঠন এবং সরকার গঠনের পর একটার পর একটা চমক। এক্ষেত্রে তারেক রহমানের চাহিদা তা তো দ্বিগুন হয়ে গেল। একেতো বাঙালি জাতীয়তাবাদ তার উপর শহীদ জিয়ার জাতীয়তাবাদ বেগম জিয়ার জাতীয়তাবাদ তারেক রহমান সাহেবের নিজের যে ৩১ দফা সব মিলিয়ে যদি আবার জামায়াতের যে ইসলামাইজেশন তার সঙ্গে যুক্ত হয় তাহলে তো জয়নালউদ্দিন ফারুক যেটা বলেছেন যে ২০৪২ সন পর্যন্ত তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকবেন। মানে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকবেন শফিকুর রহমান। তার বয়স এখন ৭২ বছর বা ৭৩ বছর। তো সেই অর্থে যদি আরো ১৬ বছর তারেক রহমান ক্ষমতায় থাকেন তাহলে তো উনার বয়স ৯১/৯২ বছর হয়ে যাবে। ওই বয়স উনার কি দাঁত থাকবে? শক্তি থাকবে সামর্থ্য থাকবে? মাথার চুল তো এমনি এখন আর নাই।

তখন কি অবস্থায় থাকে? তিনি কি শয্যাগত থাকবেন? না সবল সচল থাকবে না। তার জায়গায় মিয়া গোলাম পারোয়ার আমির হবেন নাকি অন্য কেউ আমির হবেন? এ সমস্ত বিষয়গুলো নিয়ে যখন জামায়াতের মধ্যে চিন্তাভাবনা হয় না তাদের অনেক টেনশন হয়। তাদের অনেক কষ্ট হয়।’

তিনি বলেন, ‘আপনি দেখবেন ইদানিংকালে তাদের অনেকের চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকে আগে পাঞ্জাবি পড়তেন, পাজামা পড়তেন, মাল দিয়ে পড়তেন, ভাজ করে তারা যখন বাইরে আসতেন, ফুরফুরে ফুরফুরে একটা ভাব থাকতো। শরীর থেকে তরতাজা আতরের গন্ধ আসতো। মাথার যে টুপি সে টুপির একটা স্রোত ছিল। দাড়ির একটা জিল্লতি ছিল। তো সেই জিনিসগুলো এখন আর নাই। এখন অনেকের চেহারা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকের রাগ হয়ে যাচ্ছে। কথায় কথায় তারা চোখ গোল করছে। ইত্যাদি এই যেই নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেই সিনড্রোমগুলো দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে আবার যুক্ত হয়েছে শহীদ। তারা যাকে শহীদ উসমান হাদী বলেন তো সেই ওসমান হাদীর যারা হত্যাকারী তারা ভারতে ধরা পড়েছে এখন সে হত্যাকারীরা যদি জামায়াতের নাম বলে দেয়।’

 তিনি বলেন, ‘জামায়াতের ওপর কিন্তু বিপদ ধেঁয়ে আসবে। একটার পর একটা বিপদ ধেঁয়ে আসবে। আর এই মুহূর্তে জামায়াতের জন্য সবচাইতে বড় সমস্যা হয়ে গেছে যে জামায়াতকে কেউ বিশ্বাস করছে না। তাদেরকে সবাই একটি মুনাফেকের দল বলার চেষ্টা করছে। তাদেরকে বলছে যে এই দলে কোন ইনসাফ নেই। এরা মানুষের টাকা মেরে দেয়। এরা মানুষকে কথা দিয়ে কথা রাখে না। এরা যখন কাউকে প্রয়োজন অমনি তার হাতে পায় ধরবে। আর যখন প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে অমনি তাদের কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে দেবে। এই হলো জামায়াতি চরিত্র।

সেই চরিত্র সেই মুনাফিকের চরিত্র যে কতটা নির্মম এবং নিষ্ঠুর তার কিছু নমুনা আপনি পাবেন পীরে চরমোনাই। মানে চরমোনাই পীর সাহেবের যিনি ছোট পীর তার কিছু বক্তব্য। খুব খোলামেলা তিনি সে বক্তব্য দিয়ে দিয়েছেন মাওলানা ফয়জুল করিম সাহেব। এরপর হেফাজতের যিনি বর্তমান আমির রয়েছেন তিনিও জামায়াত সম্পর্কে খুব বাজে কথা বলে যাচ্ছেন বলছেন। ইতিমধ্যে তারেক রহমান সাহেবের সঙ্গে সেই জামায়াতের মানে হেফাজতে ইসলামের আমিরের দেখা সাক্ষাত হয়েছে। তিনি তাকে দোয়া করেছেন। বয়বৃদ্ধ মানুষ এবং হেফাজতের ভোটের একটা বিরাট অংশ বিএনপি পেয়েছে। অথচ এই ভোটগুলো জামায়াতের পাওয়ার কথা ছিল। জামায়াতের বিপদ কি পরিমাণ বাড়বে এবং কোন অবস্থায় যাবে সেক্ষেত্রে ইল্লু পিঙ্কুর মত যারা লোকজন আছেন যারা জামায়াতের প্রমোটার তারা কি আসলে জামায়াতকে শেষ পর্যন্ত রক্ষা করতে পারবেন নাকি পারবেন না সেটি এখন দেখার বিষয়।

এমআই/টিকে

মন্তব্য করুন