ইরানের সাথে যুদ্ধে সেনা সংকটে ভুগছে যুক্তরাষ্ট্র?
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪৪ পিএম | ১৪ মার্চ, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৫০০০ মার্কিন নৌসেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অনুরোধে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ একটি উভচর রেডি গ্রুপ এবং একটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। এই বহরে তিনটি যুদ্ধজাহাজসহ প্রায় ২,৫০০ মেরিন সেনা থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, অত্যাধুনিক এফ-৩৫বি লাইটনিং-টু জেট এবং এমভি-২২বি অস্প্রে সমৃদ্ধ এই সেনাদলটি জাপানে অবস্থানরত ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজে করে মধ্যপ্রাচ্যের পথে রওনা হয়েছে। গন্তব্যে পৌঁছাতে জাহাজটির অন্তত দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।
ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এখনই থামানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। যদিও সম্প্রতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা এবং ৬০টি ইরানি নৌযান ডুবিয়ে দেওয়ার মতো সামরিক সাফল্যের দাবি করেছে হোয়াইট হাউস, তবুও রণক্ষেত্রে পরিস্থিতির জটিলতা কমছে না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪শ' ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক বার্তায় দাবি করেছেন যে, তারা সামরিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
এদিকে যুদ্ধের ময়দানে মার্কিন ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। শুক্রবার মার্কিন প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, গত বৃহস্পতিবার ইরাকের আকাশে বিধ্বস্ত হওয়া একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমানের ছয়জন ক্রু সদস্যের সবাই নিহত হয়েছেন।
সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউরি চলাকালীন বিমানটি বিধ্বস্ত হলেও এটি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার শিকার হয়নি। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং অন্তত ১৫০ জন আহত হয়েছেন। যদিও মার্কিন প্রশাসন হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে কিছুটা লুকোছাপা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এক সংবাদ সম্মেলনে হতাহতের সঠিক সংখ্যা জানতে চাইলে যুদ্ধ সচিব পিট হেগসেথ সরাসরি উত্তর না দিয়ে জানান যে, যুদ্ধের ময়দান সবসময়ই বিশৃঙ্খল থাকে। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী কয়েকশ মার্কিন সেনা নিহতের বিষয়টিকে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিচ্ছে।
সূত্র: মিডলইস্ট আই
এমআর/টিকে