© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

যশোরের এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশ-বিদেশের প্রায় ১৭০০ মুসল্লি

শেয়ার করুন:
যশোরের এক মসজিদে ইতিকাফে বসেছেন দেশ-বিদেশের প্রায় ১৭০০ মুসল্লি

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৩:২৬ এএম | ১৫ মার্চ, ২০২৬
যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা গ্রামে অবস্থিত আশরাফুল মাদারিস মসজিদে এবার এক আধ্যাত্মিক আবহ বিরাজ করছে। শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.)-এর সিলসিলার শীর্ষ ধর্মীয় গুরু দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হযরত ইব্রাহিম ইসমাইল পাণ্ডু ওরফে শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকীকে ঘিরে এখানে ইতিকাফে সমবেত হয়েছেন দেশ-বিদেশের প্রায় এক হাজার ৭০০ জন মুসল্লি।

মসজিদটিতে ইতিকাফে বসা বিদেশিদের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, পানামা, মিয়ানমারের ৮০ জন নাগরিক রয়েছেন। ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের খেদমত করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারিসহ প্রায় ৬০০ স্বেচ্ছাসেবক। প্রতিদিন প্রায় আড়াই হাজার মুসল্লির ইফতারি, সেহেরি ও খাবারের ব্যবস্থা করছে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। বিদেশি নাগরিক থাকায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।

যশোরের রাজারহাট-মণিরামপুর সড়কের পাশে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের সতীঘাটা গ্রামে প্রতিষ্ঠিত আশরাফুল মাদারিস। প্রধান ফটকের ভিতরে ঢুকেই দেখা যায় চারতলা বিশিষ্ট বিশাল মসজিদ ও শিক্ষার্থীদের আবাসিক ভবন। মসজিদে তখন নামাজ আদায় চলছে। বিপুল সংখ্যক মুসল্লি নামাজে অংশ নিয়েছে। এই মসজিদেই এবার পহেলা রমজান থেকে ইতিকাফে বসেছেন কয়কেশ’ মুসল্লি। শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগ পর্যন্ত ইতিকাফে বসা মুসল্লিদের এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭০০। 

আশরাফুল মাদারিসের হোস্টেল সুপার মাওলানা হাসান ইমাম বলেন, সাধারণত এ মসজিদে শায়খুল হাদিস মাহমুদুল হাসান গাঙ্গুহি (রহ.) এর সিলসিলার অসুসারীরা ইতিকাফে বসেন। এবার সেই সিলসিলার সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতা দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হযরত ইব্রাহিম ইসমাইল পাণ্ডু ওরফে শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী এখানে ইতিকাফে বসেছেন। প্রতিবছর তিনি যেখানেই ইতিকাফে বসেন, সেখানেই তার অনুসারীরা দেশ-বিদেশ থেকে সমবেত হন। তাই এবার তাকে ঘিরে এ মসজিদে ইতিকাফে যোগ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট আলেম ও অনুসারীরা। সাধারণত ২০ রমজান থেকে সুন্নত ইতিকাফ শুরু হয়। তবে এই মাদরাসায় পহেলা রমজান থেকেই নফল ইতিকাফ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, হযরত ইব্রাহিম ইসমাইল পাণ্ডু ওরফে শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী ২০২৩ সালে এই মাদরাসায় প্রথমবারের মত বড় পরিসরে ইতিকাফে বসেছিলেন। তিন বছর পর আবার এসেছেন তিনি। তাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ও বিভিন্ন দেশ থেকে অন্তত এক হাজার ৬৮০জন মুসল্লি এই মাদরাসায় এসেছেন ইতিকাফে অংশ নিতে। এরমধ্যে বিদেশি নাগরিক রয়েছে ৮০জন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রতিদিন ১৭০০ মেহমানসহ প্রায় দুই হাজার ৩০০ লোকের জন্য সেহরি, ইফতারি ও খাবার ব্যবস্থা করা হয়। ঈদের পরের দিন পর্যন্ত মেহমানদারি চলবে।

মাওলানা হাসান ইমাম আরও বলেন, বিদেশি নাগরিকের দেশে অবস্থানের জন্য সরকারের অনুমতির প্রয়োজন হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করেছি দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিক হযরত ইব্রাহিম ইসমাইল পাণ্ডু ওরফে শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকী আমাদের মাদরাসায় ইতিকাফ করবেন। তখন মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। 

তিনি জানান, ইতিকাফ চলাকালে নামাজের আগে দেশ-বিদেশের আলেমরা মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে নসিহত পেশ করছেন। ভিন্ন ভাষায় দেয়া বক্তব্য ও জুমার খুতবা মুসল্লিদের বোঝার সুবিধার্থে বাংলায় অনুবাদ করে শোনানো হচ্ছে।

জুম্মার নামাজ শেষে কথা হয় ইতিকাফে অংশ নেয়া ঢাকা মিরপুরের একটি মাদরাসা পরিচালক হাফেজ সাইদুল হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, ২০২৩ সালেও শায়েখ ইব্রাহিম আফ্রিকীর বয়ান শুনতে তিনি এ মাদরাসায় এসেছিলেন। এখানকার ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ খুবই সুন্দর।

রাঙ্গামাটি থেকে আসা মাওলানা মুফতি ওমর আলী বলেন, মুরব্বিদের কাছে খবর পেয়ে এই মাদরাসায় ইতিকাফে এসেছি। দেশ বিদেশের আলেম উলামাদের পেয়েছি। খুবই সুন্দর পরিবেশ। আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষক মাওলানা আবু হুরাইরা বলেন, দেশ-বিদেশের মেহমান এসেছে। আমরা তাদের সান্নিধ্য পাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারছি। আমরা সাধ্যমত তাদের খেদমত করছি।

রাঙ্গামাটি থেকে আসা মাওলানা মুফতি ওমর আলী বলেন, মুরব্বিদের কাছে খবর পেয়ে এই মাদরাসায় ইতিকাফে এসেছি। দেশ বিদেশের আলেম উলামাদের পেয়েছি। খুবই সুন্দর পরিবেশ। আশরাফুল মাদারিসের শিক্ষক মাওলানা আবু হুরাইরা বলেন, দেশ-বিদেশের মেহমান এসেছে। আমরা তাদের সান্নিধ্য পাচ্ছি। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছুই শিখতে পারছি। আমরা সাধ্যমত তাদের খেদমত করছি।

মাদরাসার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য সাকলাইন জানান, বিদেশি নাগরিক অবস্থান করায় পহেলা রমজান থেকে পুলিশ মোতায়েন করা আছে। তারা রোস্টার অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছেন।


ইউটি/টিএ

মন্তব্য করুন