টলিউডে নতুন বিতর্কে মুখোমুখি
ছবি: সংগৃহীত
১১:৩২ এএম | ১৫ মার্চ, ২০২৬
টলিউডে বহুদিন ধরেই আড়ালে-আবডালে ঘুরে বেড়ানো ‘হুমকি সংস্কৃতি’ এবং ‘নিষেধাজ্ঞার সংস্কৃতি’ নিয়ে এবার প্রকাশ্য মঞ্চেই সরব হলেন দেব। টেকনিশিয়ানদের স্বাস্থ্যবিমা উদ্যোগ নিয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কথা বলতে গিয়ে শুধু স্বাস্থ্যসুরক্ষার প্রসঙ্গেই থামেননি তিনি, বরং শিল্পের ভেতরের চাপা অসন্তোষ, কাজ কমে যাওয়া, নিষেধাজ্ঞা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগও সামনে আনেন।
দেবের বক্তব্যে উঠে আসে, কোনও শিল্পীকে কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিলে ক্ষতি কেবল সেই ব্যক্তির হয় না, তার সঙ্গে যুক্ত অসংখ্য টেকনিশিয়ানের কাজের পথও বন্ধ হয়ে যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য-র নাম। তাঁর কথায়, একজন শিল্পী অভিনয় না করলেও অন্য মাধ্যমে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন, কিন্তু একটি ছবি বা ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে গেলে সেই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষের আয় থেমে যায়।
তিনি আরও বলেন, বাংলা চলচ্চিত্র ও ধারাবাহিকের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। এই অবস্থায় যদি সদস্যপদ হারানোর ভয় বা কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা টেকনিশিয়ানদের মধ্যে তৈরি হয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। দেবের দাবি, বিপুল সংখ্যক টেকনিশিয়ানের মধ্যে নিয়মিত কাজ পান খুব অল্প অংশের মানুষ।
আলোচনায় উঠে আসে নতুন নিয়ম নিয়েও অসন্তোষ। শুটিং শুরুর আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের তালিকা জমা দেওয়ার বিধি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, বাস্তবে শেষ মুহূর্তে অনেক পরিবর্তন আসে, তাই এমন কঠোর নিয়ম অনেক সময় কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন রাজ চক্রবর্তী-র নতুন ধারাবাহিকের শুটিং আটকে যাওয়ার ঘটনাও।
দেবের এই বক্তব্যের জবাবে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর দাবি, ‘হুমকি সংস্কৃতি’ নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, বাস্তবে ফেডারেশন নয়, বরং অন্য পক্ষ থেকেই টেকনিশিয়ানদের উপর চাপ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, আদালতে যাওয়া, পারিশ্রমিক এবং কাজের কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তোলা এগুলো টেকনিশিয়ানদের নিরাপত্তাবোধে আঘাত করেছিল।

স্বরূপের বক্তব্য, ফেডারেশন আলাদা কোনও সত্তা নয়, এটি টেকনিশিয়ানদের প্রতিনিধিত্ব করে। ফলে সংগঠনের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ মানে কার্যত টেকনিশিয়ানদের অবস্থানকেই চ্যালেঞ্জ করা। একই সঙ্গে তিনি দেবের বক্তব্যে উঠে আসা স্বাস্থ্যসাথী প্রসঙ্গেও জবাব দেন। তাঁর প্রশ্ন, যাঁরা এই প্রকল্পের প্রয়োজন অনুভব করেন না, তাঁরা কি এর বাস্তব গুরুত্ব পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারেন।
টলিউডের দুই প্রভাবশালী মুখের এই প্রকাশ্য মতপার্থক্য আবারও ইঙ্গিত দিল, শিল্পের ভেতরে জমে থাকা অসন্তোষ এখনও পুরোপুরি মেটেনি। আলোচনার কেন্দ্রে এখন প্রশ্ন একটাই এই বিতর্ক কি নতুন সমাধানের পথ খুলবে, নাকি দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট করবে।
পিআরি/টিকে