হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া ও জাপান
ছবি: সংগৃহীত
১১:০৮ এএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না অস্ট্রেলিয়া। ট্রাম্প জলপথ খোলা রাখার জন্য সাহায্যের আহ্বান জানানোর পর অস্ট্রেলিয়ার পরিবহনমন্ত্রী ক্যাথেরিন কিং এবিসি রেডিওর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ‘অনুরোধের প্রেক্ষিতে আমরা কী ধরনের সহায়তা দিতে পারি, সে বিষয়ে আমরা খুবই স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত আমরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিরক্ষায় সহায়তার জন্য বিমান সরবরাহ করেছি। বিশেষ করে ওই এলাকায় বিপুল সংখ্যক অস্ট্রেলীয় নাগরিক অবস্থান করার কারণে।’
তিনি আরো বলেন, ‘কিন্তু আমরা হরমুজ প্রণালীতে কোনো জাহাজ পাঠাব না। আমরা জানি এটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ হলেও এ জন্য আমাদের কাছে কোনো অনুরোধ আসেনি এবং আমরা এমন কোনো সহায়তাও দিচ্ছি না।’
এদিকে জাপানও হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে না। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি পার্লামেন্টে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ট্যাংকারগুলো পাহারা দেওয়ার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কোনো পরিকল্পনা টোকিওর নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও এসকর্ট জাহাজ পাঠানোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। জাপান স্বাধীনভাবে কী করতে পারে এবং আইনি কাঠামোর মধ্যে কী করা যেতে পারে, তা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি।’
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চেয়েছিলেন। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয়। বর্তমানে ইরান এই সরু জলপথে কার্যত অবরোধ সৃষ্টি করেছে। রবিবার প্রেসিডেন্টের বিমান এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি এ কথা জানান।
ট্রাম্প বলেন, এই প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে, কারণ এখান থেকেই তারা তাদের জ্বালানি পায়।
তিনি বলেন, ‘আমি এসব দেশকে বলছি তারা যেন নিজেদের এলাকা নিজেরাই রক্ষা করে। এখান থেকেই তারা শক্তি বা জ্বালানি পায়। আমাদের হয়তো সেখানে থাকারও দরকার নেই, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অনেক তেল আছে।’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত সাতটি দেশের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছে, যাদের অনেকেই ন্যাটোর সদস্য। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ন্যাটোর পাশে থাকে এবং ইউক্রেন ইস্যুতেও সহযোগিতা করছে।’
কোন দেশগুলো সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে, এ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, এখনই তা বলার সময় হয়নি। তবে কিছু দেশ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আবারও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীকে ধ্বংস করেছে। তবে সতর্ক করে বলেন, কয়েকজন মানুষ বা সন্ত্রাসীও সহজেই প্রণালীতে মাইন ফেলে জাহাজ চলাচলে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
সূত্র : আলজাজিরা
এমআর/টিকে