চসিক মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাৎ ভারতীয় ডেপুটি হাইকমিশনারের
ছবি: সংগৃহীত
০৫:৪৮ পিএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ এবং ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার ড. রাজীব রঞ্জন।
সোমবার (১৬ মার্চ) চসিক কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, সব ধর্মের মানুষের জন্য চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও সম্প্রীতির শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আমি কাজ করছি। চট্টগ্রাম শান্তি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
এই শহরের মাটি ও মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ধারক ও বাহক। সেই ঐতিহ্যকে ধারণ করে চট্টগ্রামকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও মানবিক সেফ সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় আমি নাগরিকদের কাছে একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম-চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও শান্তিপূর্ণ নগরী হিসেবে গড়ে তুলব। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দায়িত্ব পালনকালে একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পেরেছি যে, নগরীতে কোনো সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেনি। সব ধর্মের মানুষ যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন, সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ আমরা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে কেবল অর্থনীতির কেন্দ্রই নয়, এটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের মানুষের সহাবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। এখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বসবাস করছে। এই ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতে আমরা প্রশাসন ও নাগরিকদের সমন্বয়ে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী গড়ে তুলতে কাজ করছি।
মেয়র বলেন, গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য এ দেশের মানুষকে দীর্ঘ সময় সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমরা এমন একটি চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ তার ধর্মীয় স্বাধীনতা, নাগরিক অধিকার ও সাংবিধানিক মর্যাদা নিয়ে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে। নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ডেপুটি হাইকমিশনার পবন বাদেহ বলেন, আমরা বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছি। ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই উপকৃত হতে পারে।
এসময় তিনি চট্টগ্রামের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগ আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির চৌধুরীসহ কর্মকর্তারা।
আরআই/টিকে