গ্যাংস্টারের অর্থে সিনেমা নির্মাণ! নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে টাকা ফেরত চেয়েছিলেন দাউদ ইব্রাহিম
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৩৬ পিএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
বলিউডের এক অন্ধকার অধ্যায় সাম্প্রতিক সময়ে আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিনেতা ও লেখক এম এম ফারুকী সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, এক সময় তার একটি সিনেমা ঘিরে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যেখানে আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন সরাসরি নাসিরুদ্দিন শাহর কাছে অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছিল। এই ঘটনার পেছনে ছিল ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিম।
১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে হিন্দি সিনেমা শিল্প এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, সেই সময়ে বিভিন্ন গ্যাং চলচ্চিত্রে অবৈধ অর্থ বিনিয়োগ করত। বিশেষ করে দাউদ ইব্রাহিমের নেতৃত্বাধীন ডি-কোম্পানির নাম প্রায়ই শোনা যেত। প্রযোজক, পরিচালক, অভিনেতা ও অন্যান্য শিল্পীরা তখন বিদেশ থেকে ফোনে হুমকিও পেতেন। কখনো কখনো চাঁদা দাবি বা হামলার ঘটনাও ঘটত, যা বলিউডে ভীতির পরিবেশ তৈরি করত।
লিলিপুট জানিয়েছেন, তিনি একসময় একটি সিনেমা তৈরি করছিলেন। পরে জানা যায়, ছবিটির একটি অংশ অর্থ আন্ডারওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে এসেছে। ছবিটি প্রত্যাশামতো সাফল্য পায়নি। তখনই আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোক নাসিরুদ্দিন শাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে দাবি করে—তিনি যে অগ্রিম পেয়েছিলেন, তা ফেরত দিতে হবে।

লিলিপুটের কথায়, নাসিরুদ্দিন শাহ এই পরিস্থিতিতে পড়ে অত্যন্ত বিব্রত হন। কারণ তিনি জানতেনই না যে ছবির অর্থায়নে আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোক জড়িত। নব্বইয়ের দশকে বলিউডের অনেক অভিনেতার অভিজ্ঞতাই এমন ছিল—যেখানে প্রযোজকের অর্থের উৎস সম্পর্কে তারা সচেতন থাকত না।
লিলিপুট স্বীকার করেন, তখন তিনি ভুল প্রযোজকের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। বলিউডে তখন বিভিন্ন ব্যক্তি ঘুরে বেড়াতেন, যাদের উদ্দেশ্য সবসময় পরিষ্কার ছিল না। নতুন নির্মাতাদের জন্য বোঝা কঠিন ছিল কোন প্রযোজক বৈধ ব্যবসায়ী আর কে অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত।
বিশ্লেষকদের মতে, নব্বইয়ের শেষ ও দুই হাজারের দশকে করপোরেট বিনিয়োগ এবং স্টুডিও ব্যবস্থার কারণে চলচ্চিত্রে অবৈধ অর্থের প্রভাব অনেকটাই কমে গেছে। লিলিপুটের মন্তব্য পুরনো সময়ের সেই ভয়, চাপ ও অপরাধজগতের প্রভাবের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়, যা গ্ল্যামার ও তারকার আড়ালে চলত।
এসএন