ফ্রান্স থেকে এয়ারবাস না কেনার প্রভাব কি হতে পারে জানালেন রাষ্ট্রদূত
ছবি: সংগৃহীত
১০:১৪ পিএম | ১৬ মার্চ, ২০২৬
এয়ারবাস থেকে উড়োজাহাজ না কিনলে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাবের প্রশ্নে ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে কী হবে।
সোমবার (১৬ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন রাষ্ট্রদূত।
রাষ্ট্রদূত বলেন, এয়ারবাস ফ্রান্সের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এবং তারা উচ্চমানের উড়োজাহাজ তৈরি করে। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আলোচনার ওপর নির্ভর করবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি জানিয়ে ফরাসি রাষ্ট্রদূত বলেন, সমান সুযোগ না পেলে এসব প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে আসতে আগ্রহী হবে না। জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, ইউরোপীয় ও ফরাসি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বাংলাদেশে ব্যবসার ক্ষেত্রে সমান সুযোগ থাকা জরুরি। যদি সেই সুযোগ না থাকে, তাহলে তারা এখানে আসবে না। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত সরকার নেয় না। কারণ, এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে তাদের জন্য একটি সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও ফ্রান্স দীর্ঘদিনের অংশীদার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার শুরুতেই ফ্রান্স দেশটিকে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তাই ফ্রান্স সবসময় বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত সমর্থক।
তিনি জানান, বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে, বিশেষ করে জাতিসংঘের ক্ষেত্রে। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতা গড়ে তুলতে চায়। ফ্রান্সও একই পথে বিশ্বাসী। সংঘাত নয়, সহযোগিতার মাধ্যমেই দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে আলোচনার বিষয়ে রাষ্ট্রদূত জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ছাড়াও অর্থনীতি, বাণিজ্য ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ফ্রান্স চায় আরও বেশি ফরাসি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক।
সাংস্কৃতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ নতুন সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে জিন-মার্ক সেরে-শার্লে বলেন, বাংলাদেশ থেকে আরও শিক্ষার্থী ও শিল্পী ফ্রান্সে যাক এবং ফ্রান্স থেকেও শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা বাংলাদেশে আসুক, এমন বিনিময় দুই দেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়েও আলোচনা হয়েছে জানিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, ফরাসি কূটনীতির অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে নারীবাদী পররাষ্ট্রনীতি অন্যতম। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরও সহযোগিতা করতে চায় ফ্রান্স।
ইউটি/টিএ