যুদ্ধে ঝুঁকিতে ভারতের ৫০ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স
ছবি: সংগৃহীত
০৮:৪৭ এএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
ইরানের ওপর মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হওয়ায় এবং তা দীর্ঘায়িত হওয়ায় তার বহুমুখী প্রভাব পড়তে শুরু করেছে এশিয়ার দেশগুলোতে। জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকটের পাশাপাশি এশিয়ার দেশগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে রেমিট্যান্স। কারণ বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপিন্সসহ এশিয়ার অনেক দেশেরই বিপুলসংখ্যক শ্রমিক রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে।
বিশেষ করে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদভুক্ত দেশগুলোতে প্রায় ৯১ লাখ ভারতীয় কাজ করেন।
তাঁরা প্রতিবছর প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার দেশে পাঠান। যুদ্ধের ফলে এই রেমিট্যান্স ঝুঁকিতে পড়েছে। এতে ভারতের অর্থনীতিও বড় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে ২০ থেকে ৩০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন হয়। চলমান সংঘাতের কারণে এই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে এবং জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেতে পারে ভারত। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি ভারত জ্বালানির জন্য যেমন উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল, তেমনি সেখানে কর্মরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও নির্ভর করে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে এই রেমিট্যান্স কমে যেতে পারে, যা ভারতের বাণিজ্য ভারসাম্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত অনেক ভারতীয় শ্রমিক ও পেশাজীবী এরই মধ্যে চাকরি হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ইরানি হামলার কারণে কিছু তেল ও গ্যাস কম্পানি তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানও কার্যক্রম বন্ধ করছে।
সাবেক ভারতীয় রাষ্ট্রদূত তালমিজ আহমেদ বলেন, উপসাগরে কর্মরত প্রতিটি ভারতীয় সাধারণত দেশে চার-পাঁচজন পরিবারের সদস্যকে সহায়তা করেন। ফলে তাঁদের আয়ের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা চার-পাঁচ কোটি। এদিকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। উপসাগরীয় বিভিন্ন স্থানে ইরানি হামলায় এশিয়ার অন্যান্য শ্রমিকের সঙ্গে কয়েকজন ভারতীয়ও নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। সূত্র : আল জাজিরা
ইউটি/টিএ