‘র’ ও ‘আরএসএস’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ মার্কিন কমিশনের
ছবি: সংগৃহীত
০২:০৫ পিএম | ১৭ মার্চ, ২০২৬
ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য ভারতকে ‘বিশেষ উদ্বেগের দেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করতে এবং পররাষ্ট্র গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং (র) ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকারের একটি কমিশন।
গতকাল সোমবার মার্কিন আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ) এই সুপারিশ করে। সম্প্রতি প্রকাশিত ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি সুপারিশ করেছে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এবং কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘আরএসএস’-এর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ওপর ‘নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা’ আরোপ করা হোক।
এই প্রতিবেদনের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক মার্কিন কমিশনের (ইউএসসিআইআরএফ) সর্বশেষ প্রতিবেদনটি আমলে নিয়েছি।
আমরা স্পষ্টভাবে ভারতের বিরুদ্ধে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ধারাবাহিক অভিযোগকে প্রত্যাখ্যান করছি। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে ইউএসসিআইআরএফ বস্তুনিষ্ঠ তথ্য না ব্যবহার করে সন্দেহজনক উৎস এবং নিজের দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে ভারতের বিকৃত চিত্র উপস্থাপন করছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই ধরনের ভুল তথ্য বারবার উপস্থাপনের ফলে শুধু কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষুণ্ণ করে। ভারতের বিরুদ্ধে বেছে বেছে সমালোচনা চালানোর পরিবর্তে, ইউএসসিআইআরএফের উচিত যুক্তরাষ্ট্রে হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর ও হামলার উদ্বেগজনক ঘটনা, ভারতকে বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী ভারতীয়দের প্রতি বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও ভীতি সম্পর্কে মনোযোগ দেওয়া। ইউএসসিআইআরএফ ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এই সুপারিশগুলো করেছে। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ভারতের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে মার্কিন সরকারকে অনুরোধ করা হয়েছে ভারতকে একটি সিপিসি (বিশেষ উদ্বেগের দেশ) হিসেবে চিহ্নিত করার জন্য, কারণ দেশটি কথিতভাবে ‘পরিকল্পিত, চলমান এবং গুরুতরভাবে ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনে জড়িত।’
এতে ‘র’ এবং ‘আরএসএস’সহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থার ওপর নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে তাদের দায়িত্ব ও সহনশীলতার জন্য সম্পদ জব্দ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পদক্ষেপ।
কমিশন ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যতের মার্কিন নিরাপত্তা সহায়তা এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতিকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উন্নতির সঙ্গে সংযুক্ত করারও সুপারিশ করেছে। এটি মার্কিন কংগ্রেসকে ২০২৪ সালের ‘ট্রান্সন্যাশনাল রিপ্রেশন রিপোর্টিং অ্যাক্ট’ পুনরায় উত্থাপন এবং পাস করার আহ্বান জানিয়েছে। এই আইন পাস হলে, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ভারত সরকারের চালানো আন্তঃরাষ্ট্রীয় দমনমূলক কর্মকাণ্ডের বার্ষিক প্রতিবেদন দাখিল করা বাধ্যতামূলক হবে।
ভারতের মূল্যায়নে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৫ সালেও ধর্মীয় স্বাধীনতার অবস্থার অবনতি অব্যাহত রয়েছে, কারণ সরকার ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং তাদের উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে নতুন আইন প্রবর্তন ও প্রয়োগ করেছে। প্রতিবেদনে আরো দাবি করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি রাজ্য ধর্মান্তরবিরোধী আইন প্রবর্তন করার প্রচেষ্টা চালিয়েছে, যার মধ্যে কঠোরতর কারাদণ্ড দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
ইউটি/টিএ