প্রস্তুত শোলাকিয়া, ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত সকাল ১০টায়
ছবি: সংগৃহীত
০৩:৫৯ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। এ ঐতিহ্যবাহী মাঠে প্রতি বছরই জেলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক লাখ মুসল্লি ঈদের জামাতে অংশ নেন। ইতোমধ্যে নামাজের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। ঈদ জামাতকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এবার জামাতে ইমামতি করবেন মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা গেছে, শেষ মুহূর্তের সাজসজ্জার কাজ চলছে। ঈদগাহ মাঠের সীমানা প্রাচীরে দেওয়া হচ্ছে রঙের প্রলেপ। মুসল্লিদের কাতার সোজা রাখতে দাগ কাটার কাজও শেষ হয়েছে।
প্রতি বছর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এবারও স্থানীয় ও দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের কথা বিবেচনায় রেখে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এ মাঠে ঈদের একটি মাত্র জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। বংশ পরম্পরায় দেশের বিভিন্ন জেলার মুসল্লিরা এ মাঠে নামাজ আদায় করে আসছেন।
শোলাকিয়ার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ‘এ মাঠে লাখো মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করলে, তাদের মধ্যে কারও একটি দোয়াও যদি আল্লাহ কবুল করেন, তবে আমরাও তার সওয়াবের অংশীদার হতে পারি। তাছাড়া এখানে ঈদের নামাজ আদায় করলে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।’
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘শোলাকিয়া মাঠে মুসল্লিদের নিরাপত্তায় চার স্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঈদগাহ পর্যবেক্ষণের জন্য ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ক্যামেরা ও ৬৪টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা থাকবে জেলা শহরসহ ঈদগাহ মাঠ।’
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে শোলাকিয়া স্পেশাল নামে দুটি বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮২৮ সালে এ মাঠে প্রথম বড় ঈদ জামাতে একসঙ্গে সোয়া লাখ মুসল্লি নামাজ আদায় করেন। সেই থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা বর্তমানে ‘শোলাকিয়া’ নামে পরিচিত।
এমআই/এসএন