© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

শিল্পীদের পছন্দের দল থাকার অর্থ সে অপরাধী নয় : জায়েদ খান

শেয়ার করুন:
শিল্পীদের পছন্দের দল থাকার অর্থ সে অপরাধী নয় : জায়েদ খান

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৪:২০ পিএম | ১৮ মার্চ, ২০২৬
প্রায় দুই বছর ধরে বাংলাদেশে ছেড়ে দূর প্রবাসে অবস্থান করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের আলোচিত চিত্রনায়ক ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান। দেশ ছাড়ার আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া-সহ বিভিন্ন দেশে স্টেজ শো নিয়ে ব্যস্ততা তার। ফলে দেশের বাইরে নিয়মিত যাওয়া-আসা। এ অবস্থায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান হলে পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত করা হয় তাকে। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি জায়েদ খানের।

বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে দেশের একটি গণমাধ্যমকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক থেকে এ নায়ক জানালেন, দেশে ফিরতে কোনো বাধা নেই তার। হাতে কিছু কাজ রয়েছে। নিয়মিত শো করেন। অন্যান্য দেশে শো করছেন। এ নিয়ে ব্যস্ত সময় যাচ্ছে। একইসঙ্গে নিজের নামে হওয়া মামলার ব্যাপারে বললেন, ‘কোনো কারণ ছাড়াই ব্যক্তিগত আক্রোশ ও প্রতিহিংসা থেকে মামলা করা হয়েছে। যারা অভিযোগ জানিয়েছেন, তারাও জানেন অভিযোগগুলো মিথ্যা।’

জায়েদ খান বছর দুই আগেও প্রোগ্রামে পারফরম্যান্স করার জন্য বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন দেশে উড়ে গিয়েছেন। কিন্তু গত দেড় বছর সময়ে একবারও দেশে ফেরেননি। আবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মামলায় অভিযুক্ত করায় অনেক সময় গুঞ্জন শোনা যায় জায়েদ খান নাকি আর দেশে ফিরবেন না। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করতেই অকপটে জবাব তার।

এ অভিনেতা বলেন-

‘এটি একদমই ভুল। আমি দেশে ফেরব না কেন, অবশ্যই ফিরব। সময়-সুযোগ হলে বাংলাদেশে যাব, এটি আমার মাতৃভূমি। সেখানে গ্রামে আমার মা-বাবার কবর। দেশে থাকা অবস্থায় মাঝে মধ্যেই গ্রামে গিয়ে তাদের কবর জিয়ারত করেছি আমি। দেশে আমার ভাই-বোন রয়েছে। শিল্পী হিসেবে সহকর্মী শিল্পীদের নিয়মিত খোঁজ রেখেছি। এত এত প্রিয় মানুষ রেখে আপাতত এখানে (যুক্তরাষ্ট্র) থেকে যাওয়ার কথা ভাবছি না।’



‘এখানে আমি ঠিকানা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। নিউইয়র্কে থাকা বাংলাদেশি তারকাদের নিয়ে নিয়মিত শো করি। আবার হাতে শর্টফিল্মের কাজ রয়েছে। সে জন্য নিজেকে ভেঙে গড়েছি। পাশাপাশি স্টেজ শো তো রয়েছেই। এসব ব্যস্ততা থেকে দেশে যাওয়া হচ্ছে না। তবে দেশে ফিরব, অবশ্যই ফিরব’ বলেও যোগ করেন তিনি।

জায়েদ খান ছাড়াও অনেক শিল্পী এখন দেশের বাইরে রয়েছেন। আবার অনেকেই দেশ ছাড়ার জন্য চেষ্টা করেও সফল হননি। এ ব্যাপারে তিনি জানান, সময়ের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। তিনি একজন শিল্পী, আজীবন ক্যামেরার সামনে থাকতে চান। যদি সেই সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে দেশের মানুষের সঙ্গে হয়ে ওঠে, বাংলাদেশে যাওয়া-আসা করে সেটি সম্ভব হলে খারাপ কি। দিন শেষে কোথায় ভালো থাকা যায়, সেটিই মুখ্য বিষয়। কে না চায় ভালো ও সুন্দর একটি জীবন। দেশের বিগত সময়ের পরিস্থিতিও শিল্পীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে বলে আভাস পাওয়া গেল তার কথায়।

শিল্পী সমিতির সাবেক এ সাধারণ সম্পাদকের মতে, শিল্পীদের কোনো সীমানা নেই। তারা সব দেশের জন্য কাজ করবে, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য কাজ করবে। তিনি বলেন-

‘আমি ২০২৪ সালের ২৬ জুন দেশ ছেড়েছি। শো করার জন্য এসেছি। এরপর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা শুরু হয়। আমি-সহ অনেকের নামেই মামলা হয়েছে। তাদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। মিথ্যা মামলা হলে স্বাভাবিকভাবে শিল্পীরা বিব্রত হন। যদি বলেন, আমার রাজনৈতিক চাপ ছিল, তাহলে অনেক শিল্পীর ক্ষেত্রেই ছিল সেটি। কিছুদিন হলো নির্বাচন হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। এখন অনেক অভিযুক্ত শিল্পী দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মামলাগুলোও তো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে। কারণ, শিল্পীরা সহজ-সরল। এই সুযোগটা কিছু অসাধু ব্যক্তি কাজে লাগিয়েছে।’

আলাপচারিতায় শিল্পীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও উঠে আসে। বিগত সময় অনেক শিল্পীকে রাজনৈতিক দলের হয়ে নির্বাচনি প্রচারণাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা গেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জায়েদ খান বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা সত্য এবং অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে, কোনো মানুষ কি নিরপেক্ষ হতে পারে? প্রতিটি মানুষেরই তো পছন্দের কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল রয়েছে বা থাকে। হয়তো কেউ তা প্রকাশ করে, কেউ মনের মধ্যেই রাখে।’

‘কখনো কি দেখেছেন, কোনো শিল্পী কোনো দুর্নীতি করেছে, সন্ত্রাসী কার্যক্রমের জড়িত, কোনো মানুষ হত্যা করেছে। শিল্পীদের দ্বারা এসব হয় না। শিল্পীরা সহজ-সরল হয়ে থাকে। হয়তো তারা তাদের পছন্দের দলের হয়ে কাজ করেছে। পছন্দের দলের হয়ে কাজ করলেই কী সে অপরাধী? আমি দীর্ঘদিন শিল্পীসমিতির দায়িত্বে ছিলাম। কই, আমরা তো বিএফডিসিতে কিংবা কোনো শিল্পীর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাব বা বৈষম্য দেখাইনি। আমাদের সিনিয়ররাও তো আমাদের সঙ্গে এমনটা করেনি। কিছুদিন আগেই দেশে নির্বাচন হয়েছে। সেখানে অনেক অভিনয়শিল্পী ও সংগীতশিল্পী দলের পক্ষে প্রচারণা করেছে, তাই বলে কী তারা অপরাধী? তারা পছন্দের দলের জন্য কাজ করেছে। যা স্বাভাবিক।’

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশে। এতে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার আগে থেকে গণতন্ত্রের কথা বলছেন। সরকার হওয়ার পরও কথা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছেন বলে জেনেছেন জায়েদ খান।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা রেখে এ অভিনেতা বলেন-

‘আপনি (প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান) অনেক গণতন্ত্রমুখি, আপনার কাছে দেশের সাধারণ মানুষের অনেক আশা-প্রত্যাশা রয়েছে। একইভাবে একজন শিল্পী হিসেবে বলব, আপনি শিল্পীদের বিষয়টি সুনজরে দেখবেন। সব শিল্পীকে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে কাজের সুযোগ করে দেবেন। শিল্পীরা তাদের কাজ করুক। দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে রক্ষা করুক। আপনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাক। আর কোনো শিল্পীর যদি ভুল-ত্রুটিও থাকে, তাহলে তাদের সংশোধনের সুযোগ করে  দিন। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ শিল্পীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে জেল-জরিমানা করছে, যা ঠিক নয়। শিল্পীদের বিষয়টি  করবেন বলে আশা করছি।’

পিআর/টিকে

মন্তব্য করুন