© bangladeshtimes.com সকল অধিকার সংরক্ষিত ২০২১-২০২২।

ইরান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় পেন্টাগন

শেয়ার করুন:
ইরান যুদ্ধের জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ চায় পেন্টাগন

ছবি: সংগৃহীত

মোজো ডেস্ক
০৯:০২ পিএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় মেটাতে ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুমোদনের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর-পেন্টাগন। এই বিশাল অঙ্কের বাড়তি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব, প্রতিনিধি পরিষদ বা কংগ্রেসের কাছে গেলে যুদ্ধবিরোধী আইনপ্রণেতাদের তীব্র বিরোধিতার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইরানের বিরুদ্ধে এরমধ্যেই ট্রাম্প প্রশাসন তার সর্ববৃহৎ আকাশপথের আক্রমণ অভিযান চালাচ্ছে। কিন্তু, এই প্রস্তাবের পরিমাণ তার ব্যয়কেও ছাড়িয়ে যাবে। গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে গিয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রগুলো ব্যবহার করেছে, সেগুলোর উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই তহবিল চাওয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এ সম্পর্কে অবগত আরও তিনজন। তারা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, প্রতিরক্ষা দপ্তর এ ধরনের বড় আকারের অর্থায়ন প্যাকেজ চাইছে।

এই প্রতিবেদনের জন্য কথা বলা অনেকের মতো তারাও পরিচয় গোপন রাখার শর্তে প্রশাসনের সংবেদনশীল পরিকল্পনার বিষয়ে এসব তথ্য দিয়েছেন।

হোয়াইট হাউস শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের কাছে কত অর্থ অনুমোদনের জন্য চাইবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, পেন্টাগনের এই প্রস্তাব কংগ্রেসে অনুমোদন পাওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা কম। গত দুই সপ্তাহে প্রতিরক্ষা দপ্তর বিভিন্ন আকারের অর্থায়ন প্রস্তাব সামনে এনেছে বলেও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। 

এই অর্থায়ন প্রস্তাব কংগ্রেসে বড় ধরনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের জন্ম দিতে পারে, কারণ যুদ্ধের পক্ষে জনসমর্থন এখনও সীমিত এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা ইরান যুদ্ধ শুরু নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে আসছেন। রিপাবলিকানরা এই সম্পূরক বাজেট প্রস্তাবে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও- এখনো কোনো স্পষ্ট আইন প্রণয়ন কৌশল বা সিনেটে ৬০ এর বেশি ভোটে এটি অনুমোদনের উপায় বের করতে পারেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণার সময়, ভিন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকী জো বাইডন প্রশাসনের ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য বিপুল অর্থ অনুমোদন দেওয়ার সমালোচনাও করেছিলেন। যদিও ওই বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য কংগ্রেস প্রায় ১৮৮ বিলিয়ন ডলার অনুমোদন করেছিল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ পরিদর্শক সংস্থা।

অর্থাৎ, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার চেয়েও বেশি অর্থ বরাদ্দ এবার খোদ ট্রাম্পেরই প্রশাসন চাইছে।

পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং হোয়াইট হাউসও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

ইরান যুদ্ধের ব্যয় দ্রুত বেড়েছে, প্রথম সপ্তাহেই যা ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে বলে একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন অতিরিক্ত অর্থায়নের প্রস্তাব তৈরির কাজ শুরু করে, যাতে যুদ্ধ চলাকালেও বিশ্বের অন্যান্য শক্তির সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখা যায়।

পেন্টাগনের ভেতরে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন উপপ্রতিরক্ষামন্ত্রী স্টিভেন ফেইনবার্গ, যিনি গত এক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প ও নির্ভুল অস্ত্র, গোলাবারুদ উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করে আসছেন। যুদ্ধের কারণে এসব অস্ত্র দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

ফেইনবার্গের দপ্তর দ্রুত গোলাবারুদের ঘাটতি মোকাবিলায় একদিকে যেমন কাজ করছে, তেমনি কখনো কখনো ধীরগতির প্রতিরক্ষা শিল্পকে চাঙ্গা করতে বিভিন্ন অর্থায়ন প্যাকেজ প্রস্তুত করেছে বলে সংশ্লিষ্ট একজন জানিয়েছেন।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগেই ট্রাম্প কংগ্রেসের প্রতি দেড় ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও বেশি। তবে অতিরিক্ত এই বাজেট সেই মোট অংকের সঙ্গে যুক্ত হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এমনকী হোয়াইট হাউসের বাজেট দপ্তরও তাদের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় এই অংককে অত্যধিক বড় বলে আপত্তি জানিয়েছে।

এছাড়া সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির চেয়ারম্যান টম কটন-ট্রাম্প প্রশাসনকে চূড়ান্ত প্যাকেজে গোয়েন্দা খাতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেন্টাগনের এই অর্থায়ন প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসে আসন্ন বিতর্ক- যুদ্ধের পক্ষে/ বিপক্ষে জনমতের একটি বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। যুদ্ধের সমালোচকরা যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধে জড়িত থাকার বিরোধিতা জানাতে প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যানসিয়ান বলেন, "সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা যুদ্ধব্যয়ের কিছু হিসাব করেছি, কিন্তু তাতে অনিশ্চয়তা অনেক বেশি এবং কংগ্রেস জানতে চায় প্রকৃত ব্যয় কত। ট্রাম্প প্রশাসন যদি আরও অর্থ চায়, তাহলে বড় রাজনৈতিক লড়াই হবে, কারণ যুদ্ধবিরোধী সব মনোভাব এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করেই জমাট বাঁধবে।"

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, যেকোনো অতিরিক্ত অর্থায়ন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে আরেকটি বড় সমস্যা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা শিল্প কত দ্রুত উৎপাদন বাড়াতে পারবে। কর্মীসংখ্যা, উৎপাদন সক্ষমতা এবং সবচেয়ে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্রগুলো বানাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সীমাবদ্ধতা- এসবই এর সময়সীমা নির্ধারণ করবে।

ইলেইন ম্যাককাস্টার, যিনি আগে পেন্টাগনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত কম্পট্রোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট-এ প্রতিরক্ষা বাজেট বিশ্লেষণ করেন, বলেন, "শুধু অনেক অর্থ ঢেলে দিলেই যে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে, তা নয়। তবে অর্থ না দিলে যে দ্রুত কিছু পাওয়া যাবে না, সেটাও নিশ্চিত।"

এমআর/টিকে 

মন্তব্য করুন