ইরানের এখনো সামরিক সক্ষমতা আছে : জেনারেল ড্যান কেইন
ছবি: সংগৃহীত
০৯:৪২ পিএম | ১৯ মার্চ, ২০২৬
পেন্টাগনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য দিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনও।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার প্রায় তিন সপ্তাহ পরও ইরান যে উপসাগরজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে; এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে কেইন বলেন, ইরান অনেক অস্ত্র নিয়ে এই যুদ্ধে নেমেছিল এবং সে কারণেই যুক্তরাষ্ট্র যতটা সম্ভব আক্রমণাত্মকও দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে খুঁজে বের করছে, শনাক্ত করছে এবং হত্যা করছে। তবে ইরান এখনো কিছু সক্ষমতা বজায় রেখেছে।
কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের লক্ষ্য অর্জনে এখনো পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে তাদের অভিযান অবিরাম চলছে।
তিনি বলেন, ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ৫ হাজার পাউন্ড (২ হাজার ২৭০ কেজি) ওজনের পেনিট্রেটিভ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে; যা কংক্রিট ভেদ করে ভেতরে ঢোকার পর কার্যকর হওয়ার জন্য নকশা করা।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে হালনাগাদ তথ্য জানাতে গিয়ে জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আরও পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে একমুখী আক্রমণাত্মক ড্রোন শিকার ও ধ্বংস করছে।
তিনি বলেন, এ-১০ ওয়ারথগ বিমান এখন দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে এবং হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত আক্রমণকারী নৌযান লক্ষ্য করে আঘাত হানছে।
কেইন বলেন, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টারও দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযানে যোগ দিয়েছে ড্রোন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে। ইরাকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আঘাত হানছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইরান যুদ্ধ নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র পরিকল্পনাতেই আছে এবং লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তবে সংঘাত কখন শেষ হতে পারে; তার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা তিনি দিতে চাননি। আরও স্পষ্টতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা কোনও নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে চাই না।
তিনি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করেন, এর মধ্যে রয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা, এবং ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে তা নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে, এবং আমরা কী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করছি এবং কেন করছি, সে বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট ধারণা নিয়ে কাজ করছে সেনারা।
এমআই/টিকে