তাড়াশ থানা এসআই- এর বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
ছবি: সংগৃহীত
০১:০৭ পিএম | ২০ মার্চ, ২০২৬
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার এসআই মো. আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেওয়া ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করার কথা বলে লাখ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত দুটি অডিও কল রেকর্ড ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে, এসআই আলমগীর হোসেন তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের একটি মামলার আসামিদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে কুচক্রী মহলের অপপ্রচারের শিকার হয়েছেন।
বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান অভিযোগ ওঠার পর এসআই আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।
ফাঁস হওয়া দুটি অডিও কল রেকর্ডের মধ্যে একটিতে, উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের ঈশ্বরপুর গ্রামের একটি পিটিশন মামলার আসামি মো. সাকিব হোসাইনের কাছে ২৩ জন আসামিকে বাদ দেওয়ার শর্তে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন এসআই আলমগীর। এর মধ্যে সাকিব ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় ওই মামলায় তিনি চার্জশিট দেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে টাকা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করতে শোনা যায়।
অপর অডিও কল রেকর্ডে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলা চালানোর অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার আসামির বক্তব্য থেকে জানা যায়, আসামিদের গ্রেপ্তার না করর শর্তে আটজনের কাছ থেকে নগদ ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ নেন এসআই আলমগীর। আরো ঘুষ দাবি করায় আসামিরা টাকা দিতে অস্বীকার করলে, গ্রেপ্তার হয়ে তাদেরকে ইফতার তাড়াশ থানায় করতে হবে মর্মে হুমকি দেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি জানান, এসআই মো. আলমগীর হোসেন তাড়াশ থানায় যোগদানের পরপরই সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব পান। এর পরেই তিনি বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
বিভিন্ন মামলার বাদী বিবাদী উভয় পক্ষের কাছ থেকে উৎকোচ আদায়সহ বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার না করা, বিভিন্ন মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করেন।
এদিকে, এসআই আলমগীর হোসেনের ঘুষ ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে মো. গোলাম মোস্তফা নামের একজন সমাজকর্মী তার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, অভিযোগের পাহাড় আপনার বিরুদ্ধে তাড়াশ থানার এসআই আলমগীর ভাই। সম্মানের সঙ্গে বদলি নিয়ে চলে যাওয়াই ভালো।
অভিযোগকারী মো. সাকিব হোসাইন জানান, আমাদের একটি বিবদমান জমি নিয়ে পৃথক দুটি মামলা হয়।
একটি মামলা তাকেসহ ২৩ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলায় তদন্ত চলাকালে আমার কাছে এসপিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অফিসারকে ম্যানেজ করে, ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার কথা বলে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। তারা নগদ ১৩ হাজার টাকা এসআই আলমগীরকে দেন। পরে অবশিষ্ট টাকা দিতে না পারায় তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেন। তিনি এসআই আলমগীর হোসেনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
অপরদিকে, উপজেলার খালকুলা বাজারে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে হামলা চালানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলার আটজন আসামির কাছ থেকে, মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।
ওই মামলার আসামি মো. আব্দুস সালাম মহুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগে আমার কোনো পদ-পদবি নেই। সমর্থন করি এই যা। তার পরও এসআই মো. আলমগীর হোসেন আমাদেরকে গ্রেপ্তার করবে না মর্মে কয়েক দফায় মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ নেন। ঈদকে সামনে রেখে আরো টাকা দাবি করলে আমরা তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় আমাদের গ্রেপ্তার করে থানায় ইফতারি করাবেন মর্মে হুমকি দিচ্ছেন। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে পারব কি না শঙ্কায় রয়েছি। এভাবে আর কতদিন চলা যায় বলেন, আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’
বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে এসআই মো. আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে এ প্রতিনিধির হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ পাঠিয়ে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি জানান, ডিআইজির নির্দেশনায় এজাহার নামীয়, আওয়ামী লীগের সদস্যদের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জন্য দু-এক জনের বাড়ির লোককে কল দেওয়া হয়েছে। কাউকে হুমকি দেওয়া হয়নি।
তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এসকে/টিকে